শনিবার আদালত থেকে বেরোনোর সময় তাঁর বিরুদ্ধে ইডির আনা প্রভাবশালী তত্ত্ব খারিজ করে মন্ত্রী বলেন, "আমি প্রভাবশালী নই।" তিনি তদন্তে কোনও ধরনের অসহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করেন।

শুভেন্দু অধিকারী এবং চন্দ্রনাথ সিনহা
শেষ আপডেট: 20 September 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেফতার হতে পারেন রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী! এই মুহূর্তে কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে (Chandranath Sinha) নিয়ে জল্পনা-কৌতূহল তুঙ্গে। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন বিপুল সম্পত্তি, তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রভাবশালী হওয়ার অভিযোগে তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের আবেদন জানিয়েছিল ইডি (ED)। তবে এদিন মামলার শুনানির পর রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। আগামী মঙ্গলবার চূড়ান্ত রায়দান হবে।
মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর থাকবে নাকি তা খারিজ হয়ে যাবে, তা নিয়ে সব মহলে আলোচনা। তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মত, চন্দ্রনাথ সিনহাকে হেফাজতে নেওয়া উচিত ইডির। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে চালু থাকা একটি থিওরির কথাও বলেন বিজেপি বিধায়ক।
চন্দ্রনাথ সিনহার প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, ''ইডি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছে। আমি মনে করি ইডি সঠিক আবেদনই রেখেছে। এইসব লোককে যার আয়ের থেকে বেশি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করাই উচিত।'' একই সঙ্গে, তিনি এও বলেন, ''একটা থিওরি পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) চালু আছে, ৭৫-২৫। আর এই ২৫-এই যদি ১২ কোটি উদ্বৃত্ত সম্পত্তি হয়, তাহলে ৭৫-এ ৩৬ কোথায় গেছে, পিসি না ভাইপো, সেটা দেখা উচিত। এটা জানতে গেলে চন্দ্রনাথ সিনহাকে হেফাজতে নেওয়া দরকার।''
এদিকে শনিবার আদালত থেকে বেরোনোর সময় তাঁর বিরুদ্ধে ইডির আনা প্রভাবশালী তত্ত্ব খারিজ করে মন্ত্রী বলেন, "আমি প্রভাবশালী নই।" তিনি তদন্তে কোনও ধরনের অসহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করেন। আইনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছেন বলেও জানান। যদিও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Corruption Case) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন চন্দ্রনাথ। ২০১৬ সালের শেষের দিকে বিপুল অঙ্কের টাকা নগদে নিয়েছিলেন তিনি।
ইডি আদালতে জানায়, ২০২৪ সালে বোলপুরে মন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল। অভিযোগ, তার নির্দিষ্ট কোনও হিসেব দিতে পারেননি চন্দ্রনাথ। আয়কর রিটার্নের নথিও সময়মতো জমা দেননি। তবে গত ৬ অগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পরই তড়িঘড়ি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রী নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে মাত্র ১৯ লক্ষের হিসেব দেখান তিনি।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ১৯ লক্ষ টাকার উৎসও স্পষ্ট নয়। কৃষি কাজ ও রিয়েল এস্টেট থেকে টাকা এসেছে বলে দাবি করলেও তার সপক্ষে কোনও নথি দেখাতে পারেননি মন্ত্রী। ইডির অভিযোগ, শুধু মন্ত্রী নন, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের অ্যাকাউন্টেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা হয়েছে।