সোমবার ওই দফতরে গিয়ে ফর্ম-৬ নিয়ে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়। মঙ্গলবার সেই আবহেই দফতরের সামনে জমায়েত হন তৃণমূলপন্থী বুথস্তরের কর্মীরা।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 31 March 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের আবহে (West Bengal Assembly Election 2026) রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তারই মধ্যে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র, অর্থাৎ ফর্ম-৬ (Form 6)। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে এই ইস্যু ঘিরে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষের রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত আগের দিন থেকেই। সোমবার ওই দফতরে গিয়ে ফর্ম-৬ নিয়ে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। তাঁর অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়। মঙ্গলবার সেই আবহেই দফতরের সামনে জমায়েত হন তৃণমূলপন্থী বুথস্তরের কর্মীরা।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) স্পষ্ট করে দেন, ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। তাঁর কথায়, সারা বছর ধরেই এই আবেদনপত্র জমা দেওয়া যায়। সাম্প্রতিক যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির নিষ্পত্তি অবিলম্বে এই নির্বাচনের আগে করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান। কারণ, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। অফলাইনে জমা পড়া আবেদনগুলিকেও আগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করতে হয়।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যত শাসকদলের অভিযোগ খারিজ করে দেন তিনি। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মনোজ আগরওয়াল জানান, কোনও ইআরও বা অন্য কেউ যদি তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার প্রসঙ্গেই তৃণমূলপন্থী বুথস্তরের কর্মীরা দফতরের সামনে বসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান বিজেপি কর্মীরাও। তাঁদের তরফে পাল্টা অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘর্ষের দিকে গড়ায়।
দুই পক্ষের স্লোগান, পাল্টা স্লোগান এবং অভিযোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হয়। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন ছিল।
এই ঘটনাকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তিনি জানান, দফতরের সামনে গোলমাল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। ওই এলাকায় বিশেষ আইন জারি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ফর্ম-৬ ইস্যু ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এই টানাপড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।