২০২২ সালের আগের অভিযোগকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলে। তবে গত জুনে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানায়, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 August 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ (100 Days Work) চালু করা নিয়ে হাইকোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গেল কেন্দ্রীয় সরকার। গত ১ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প ফের শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ কেন্দ্র। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রায় তিন বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ১০০ দিনের কাজ কার্যত স্থগিত। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার কেন্দ্রকে দায়ী করেছে এই পরিস্থিতির জন্য। কিন্তু কেন্দ্রের অভিযোগ, বিপুল দুর্নীতি হয়েছে এই প্রকল্পে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের টাকা অন্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে, মৃতদের নামেও তোলা হয়েছে অর্থ, এমনকি খাতায় কলমে প্রকল্প দেখিয়েও টাকা তোলা হয়েছে। এই কারণেই কেন্দ্র টাকা আটকে দেয়।
২০২২ সালের আগের অভিযোগকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলে। তবে গত জুনে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানায়, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। কেন্দ্র চাইলে শর্ত জুড়ে প্রকল্প চালু রাখতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল "যাঁরা কাজ পাচ্ছেন না বা কাজ করেও মজুরি পাচ্ছেন না, তাঁদের কেন ভুগতে হবে?" প্রয়োজনে অভিযোগ ওঠা চার জেলা বাদ দিয়ে অন্যত্র কাজ চালুর নির্দেশও দেয় আদালত।
কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল ২০২৪ সালে রাজ্যে তদন্ত চালিয়ে জানায়, অন্তত ৬১৩ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। রাজ্য সরকার তার মধ্যে প্রায় ২১০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলে দাবি করে। পরে আদালতের নির্দেশে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধি ছাড়াও ক্যাগ ও অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের প্রতিনিধি রাখা হয়। ওই কমিটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়, চার জেলায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
এর আগেই এই বিষয়ে পৃথকভাবে মামলা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর দাবি, প্রকল্পের টাকার নয়-ছয় হয়েছে এবং সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। খেতমজুর সংগঠনও অভিযোগ করেছিল, ডিসেম্বর ২০২১ থেকে মজুরি বন্ধ। বকেয়া মজুরি অবিলম্বে মেটানো ও সুদ দেওয়ার দাবিও ওঠে।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টে। হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকে কি না, নাকি নতুন নির্দেশে ফের আটকে যায় প্রকল্প, তার দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।