প্রকল্পগুলিকে দীর্ঘদিনের জনদাবির ফল বলেই তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে রেল যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অপর্যাপ্ত ছিল।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 27 January 2026 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) রেল পরিকাঠামো বিস্তারের (Indian Railways) পথে যে বড়সড় পদক্ষেপ হয়েছে, সেই কথাই জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) তাঁর পূর্ববর্তী আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্যে একাধিক নতুন রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমোদন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) পোস্ট অনুযায়ী, মোট পাঁচটি নতুন রেললাইন প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে - কাঁথি থেকে এগরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন, নন্দকুমার থেকে বলাইপন্ডা পর্যন্ত রেল সংযোগ, নন্দীগ্রাম থেকে কেন্দামারি (নয়াচর) পর্যন্ত নতুন লাইন, বোয়াইচণ্ডী থেকে আরামবাগ এবং বোয়াইচণ্ডী থেকে খানা পর্যন্ত দুটি পৃথক রেললাইন প্রকল্প, পাশাপাশি বাঁকুড়া (কলাবতী) থেকে পুরুলিয়া হুড়া হয়ে নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা।
এই প্রকল্পগুলিকে দীর্ঘদিনের জনদাবির ফল বলেই তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে রেল যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অপর্যাপ্ত ছিল। নতুন লাইন চালু হলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও বড় সুযোগ তৈরি হবে।
শুভেন্দু তাঁর পোস্টে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেল সংযোগের দাবি উঠছিল, সেখানে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রকল্পগুলির কাজ কবে শুরু হবে এবং কত সময়ের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হবে, সে বিষয়ে এখনও রেল মন্ত্রকের তরফে বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে নতুন রেললাইন অনুমোদনের খবরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াত নয়, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন নজর প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের দিকেই।