রাজ্যের উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের। মঙ্গলবারই শুনানির সম্ভাবনা পুজো অবকাশকালীন বেঞ্চে।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 14 October 2025 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর কাণ্ডের (Durgapur Incident) জল এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) পর্যন্ত। রাজ্যের উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করেছে ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারই শুনানির সম্ভাবনা পুজো অবকাশকালীন বেঞ্চে।
কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণ (Woman Student Assualt) করার অভিযোগে এখন সংবাদ শিরোনামে ওই দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এদিকে কলেজে পরীক্ষা চলছে। বাইরে অনেক মানুষের জমায়েত। সেই প্রেক্ষিতেই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারই বিচারপতির সম্পা দত্ত পালের এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে এফআইআরে নাম থাকা সব অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের তরফেও কড়া বার্তা দিয়ে জানান হয়েছে, সব দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এদিকে দুর্গাপুর কাণ্ড নিয়ে ১১ দফা সুপারিশ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে (CV Ananda Bose) চিঠি পাঠিয়েছে তারা।
সোমবারই দুর্গাপুরে গেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখানের চিকিৎসক, নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। রাজ্যপালের কথায়, ''রিয়্যালিটি চেক পেয়েছি। নির্যাতিতা, তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কষ্টটা বোঝার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না। সাম্প্রতিক অতীতে বারংবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ জিনিস বন্ধ হওয়া দরকার। সবাইকে একজোট হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।''
রাজ্যপাল বলছেন, বাংলা এমন জায়গা হওয়া উচিত যাতে মহিলারা সর্বক্ষণ, যে কোনও পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত অনুভব করেন। সকলে যেন গর্ব করে বাংলার সুরক্ষা নিয়ে কথা বলতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার, বর্তমানের পরিস্থিতি একদমই এমন নয়। তাঁর কড়া বার্তা, প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দ্রুত নিতে হবে।
আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) পর শোরগোল পড়েছিল গোটা রাজ্য, দেশে। পথে নেমে আন্দোলন করেছিলেন মানুষ। সিস্টেমে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও আখেরে যে কিছুই বদলায়নি তার বড় উদাহরণ এই দুর্গাপুরের ঘটনা। এই নিয়েই এখন তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতিও।