রাতে আচমকাই বেড়ে গেল দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর, স্রোতে ভেসে গেল গাড়ি! চালক-যাত্রীরা অল্পের জন্যে প্রাণে বাঁচলেন, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 2 November 2025 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বারকেশ্বর নদে বিপজ্জনক পরিস্থিতি। বাঁকুড়ার মীনাপুর কজওয়ে পেরোতে গিয়ে চরম বিপত্তির মুখে পড়লেন এক গাড়িচালক ও তাঁর সহযাত্রীরা। নদীর স্রোতে সেতুর মাঝপথেই আটকে যায় তাঁদের গাড়ি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সকলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে কজওয়ে দিয়ে গাড়িটি যাচ্ছিল। বৃষ্টির ফলে দ্বারকেশ্বরের জলস্তর তখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তাই সেতুর উপর দিয়ে বইছিল জল। ঠিক সেই সময়েই গাড়িটি মাঝপথে গিয়ে থেমে যায়। চালক বুঝতে পারেন, আর এগোনো সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সেতুর একদিকে সরে যেতে শুরু করে। বিপদ আঁচ করে চালক তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। নামেন যাত্রীরাও। মুহূর্তের মধ্যে জলের প্রবল টানে গাড়িটি কাত হয়ে সেতুর পিলারে গিয়ে আটকে যায়।
শনিবার সকালে গাড়িটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় বাঁকুড়া সদর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির মালিকের খোঁজ শুরু করে।
তবে এই ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নচাপের কারণে জলস্তর বেড়ে গেলে এই সেতু দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করা উচিত ছিল। প্রশাসন আগেভাগে সতর্কতা নিলে এমন ঘটনা ঘটত না।
এক বাসিন্দা বলেন, “কাল রাতে গাড়িটা যাচ্ছিল, তখনই জলের চাপে আটকে যায়। বৃষ্টি হলেই এই সমস্যা বাড়ে। মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে কজওয়ে পেরোতে হয়।” আর এক বাসিন্দার কথায়, “অন্য কোনও রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই বিপজ্জনক রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাতে তো আরও বিপদ। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, আমাদের অনেক সুবিধা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ডুবে থাকা এই সেতু দিয়ে চলাচল বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে, নয়তো বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে যে কোনও দিন।