কেন্দ্রীয় জল কমিশনের (CWC) হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সকালে বিপদসীমা (২০৫.৩ মিটার) পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যমুনা নদীতে সতর্কবার্তা
শেষ আপডেট: 16 August 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে যমুনার জলস্তর শুক্রবার আরও এক মিটার বেড়ে চলতি মরসুমের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ বছর তৃতীয়বার নদী সতর্কতা স্তর অতিক্রম করেছে। শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ জলস্তর দাঁড়িয়েছে ২০৫.২৫ মিটারে। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের (CWC) হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সকালে বিপদসীমা (২০৫.৩ মিটার) পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলস্তর বৃদ্ধির মূল কারণ, উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি এবং হরিয়ানার হাতনিকুণ্ড ব্যারেজ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়। কমিশনের তথ্য বলছে, শুক্রবার সকাল ৮টায় ওল্ড রেলওয়ে ব্রিজে যমুনার জলস্তর ছিল ২০৩.৯ মিটার। দুপুর নাগাদ তা সতর্কতা স্তর ২০৪.৫ মিটার ছুঁয়ে ফেলে এবং বিকেল ৫টার মধ্যে বেড়ে দাঁড়ায় ২০৫.০৭ মিটারে, যা বিপদসীমার মাত্র ২৩ সেন্টিমিটার নিচে। চলতি মরসুমের আগে সর্বোচ্চ জলস্তর ছিল ৮ অগস্টে, ২০৫.১৫ মিটার।
CWC-র তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে হাতনিকুণ্ড ব্যারেজ থেকে ঘণ্টায় গড়ে ৪০ হাজার কিউসেকের বেশি জল ছাড় হয়েছে। বিকেল ৩টায় ছাড় হয় সর্বোচ্চ ৬৫,৮৬১ কিউসেক। সাধারণত এ ধরনের জলপ্রবাহ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লিতে এসে পৌঁছয়। ফলে শনিবার সকাল পর্যন্ত যমুনার জলস্তর আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপল (SANDRP)-এর সহকারী সমন্বয়ক ভীম সিং রাওয়াত বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ধারাবাহিকভাবে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। এখন তার প্রভাব পড়ছে জলস্তরে। এই ধারা চললে বিপদসীমা অতিক্রম করা অবশ্যম্ভাবী।”
২০২৩ সালে যমুনার জলস্তর রেকর্ড গড়ে ১১ জুলাই ২০৮.৬৬ মিটারে উঠেছিল। সেদিন হাতনিকুণ্ড থেকে এক দিনে ৩,৫৯,৭৬০ কিউসেক জল ছাড় হয়েছিল। টানা কয়েক দিন জল ছাড় হয়েছিল ১ লক্ষ কিউসেকের বেশি। তুলনায়, গত বছর সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ জলস্তর ছিল মাত্র ২০৪.৩৮ মিটার, যা সতর্কতা স্তরেরও নিচে।
ফ্লাড অ্যান্ড ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, জলস্তর 206 মিটার ছুঁলেই নিচু থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
দিল্লির জলমন্ত্রী বলেন, “২০২৩ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে না। আইটিও ব্যারেজের সব গেট খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। ফ্লাড কন্ট্রোল টিম, প্রকৌশলী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। সব ব্যারেজ, রেগুলেটর, পাম্পিং স্টেশন ও ড্রেনেজ সিস্টেম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, ব্যাকআপ পরিকল্পনাও তৈরি আছে।”