অতিভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও হড়পা বানে রাজ্যের ধারালির হর্ষিল নামের এলাকায় প্রকৃতির নয়া লীলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভাগীরথী নদীর গতিপথেই বদল এনে দিয়েছেন বরুণদেব।

গভীর ঝিলে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছে নদী।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডে তাণ্ডবনৃত্য দেখানোর পর ফের নতুন রূপে দেখা দিল প্রকৃতি। অতিভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও হড়পা বানে রাজ্যের ধারালির হর্ষিল নামের এলাকায় প্রকৃতির নয়া লীলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভাগীরথী নদীর গতিপথেই বদল এনে দিয়েছেন বরুণদেব। গতকাল পর্যন্ত ভাগীরথী যে পথে এগচ্ছিল, আজ সেই হর্ষিল এলাকাতেই একটি গভীর ঝিলে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছে নদী। নদীর গতিধারার এই হঠাৎ খামখেয়ালিপনায় সেনা শিবিরই শুধু বিপন্ন নয়, গোটা এলাকার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হর্ষিলের কাছে এসে ভাগীরথীর গতিমুখ সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে ধসে গড়িয়ে পড়া পাথরের চাঁই ও কাদামাটিতে চাপা পড়ে গিয়েছে নদীর ধারাপথ। এই বাধার মুখে পড়ে ঘুরে গিয়েছে ভাগীরথীর মুখ। এই বাধার মুখে পড়ে হর্ষিলে দেখা দিয়েছে প্রায় ৩ কিমি লম্বা একটি জলাধার বা অস্থায়ী ঝিল।
যেখানে কয়েকদিন আগেও সেনাদের শিবির ছিল তা আজ ঝিলের তলায়। পাহাড় থেকে খসে পড়া ধ্বংসস্তূপ প্রাকৃতিক বাঁধের মতো ভাগীরথীর চলার পথ আটকে রেখেছে। নদীর মাঝেই তা গজিয়ে উঠেছে বাধা পেয়ে। যার ফলে এই অস্থায়ী জলাধার বা ঝিলেই এখন নদীর জল উজানপথে এসে জমা হচ্ছে। তাতেই দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা। এই ঝিলই গিলে খেয়েছে সেনা শিবির, ধারালি-হর্ষিল হাইওয়ে। যার ফলে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ।
সেনা ও ত্রাণ বন্টনকারী দল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তখন এই নতুন উৎপাতে আরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নদীর জমা জলে জলস্তর হু-হু করে বাড়ছে এবং গোটা এলাকাকে গিলে খেতে চলেছে। এই জমা জল যে কোনও মুহূর্তে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা।
জলের চাপে এই পাথুরে বাঁধ যদি ভেঙে যায় তাহলে ফের বিরাট বিপদ ঘটে যাবে। এমনিতেই ধারালি, হর্ষিল বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে, তার উপর বাঁধ ভাঙলে জনজীবন একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে।