স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবক নিশ্চিন্ত থাকেন সন্তান নিরাপদ হাতে রয়েছে ভেবে। কিন্তু সেই বিশ্বাসে চিড় ধরাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় (Canning School)।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 July 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবক নিশ্চিন্ত থাকেন সন্তান নিরাপদ হাতে রয়েছে ভেবে। কিন্তু সেই বিশ্বাসে চিড় ধরাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় (Canning School)। অভিযোগ, রায়বাঘিনী ডিপল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক লাক্সমান লিমা এক নাবালিকা ছাত্রীকে গত এক বছর ধরে একের পর এক অশ্লীল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ( WhatsApp lewd messages) পাঠাচ্ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শুক্রবার অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে আটক করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মেয়ে চুপ থাকলেও, সম্প্রতি ফের আপত্তিকর মেসেজ পেয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সে। পরিবারের সঙ্গে স্কুলে এসে সরাসরি প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাত্রী। সেই সময় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে স্কুলে আসে পুলিশ।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক লিমা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছে সমস্ত মেসেজের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে। আপাতত, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা রায়বাঘিনী অঞ্চল। বহু অভিভাবক স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি তোলেন। তাঁদের প্রশ্ন, “যিনি মাথা হয়ে থাকেন, যদি তিনিই এমন করেন, তবে শিক্ষার ভবিষ্যৎ কোথায়?”
স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি। তবে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।