বর্তমানে হুমায়ুন কবীর রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা পাচ্ছেন। কিন্তু আদালতে উপস্থিত বিধায়ক নিজেই সেই ব্যবস্থাকে অপর্যাপ্ত বলে দাবি করেন। হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে মাত্র দু’জন পুলিশ আধিকারিক রয়েছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট নয়।
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 16 January 2026 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেস (সাসপেন্ডেড) বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিধায়কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন শুনে কেন্দ্রের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্যের উচ্চ আদালত।
শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui) যদি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা (Central Force Security) পেয়ে থাকেন, তাহলে হুমায়ুন কবীরকে কেন সেই সুরক্ষা দেওয়া হবে না? - এই যুক্তি তুলে ধরেন আবেদনকারীর আইনজীবী।
এর জবাবে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, বর্তমানে হুমায়ুন কবীর রাজ্য পুলিশের (West Bengal Police) নিরাপত্তা পাচ্ছেন। কিন্তু আদালতে উপস্থিত বিধায়ক নিজেই সেই ব্যবস্থাকে অপর্যাপ্ত বলে দাবি করেন। হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে মাত্র দু’জন পুলিশ আধিকারিক রয়েছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট নয়। তাঁর আশঙ্কা, তিনি প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ (Justice Subhra Ghosh) কেন্দ্রের কাছে জানতে চান, কোন পরিপ্রেক্ষিতে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামী সোমবার আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে।
বিচারপতি স্পষ্ট জানান, ওই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেবে বলে জানানো হয়েছে।
নওসাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui) কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ভাঙড়ের পরিস্থিতি, প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বিচার বিবেচনা করে তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। আবেদনে সাড়া দিয়েছিল উচ্চ আদালত। এবার সেই একই পথে হেঁটেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন।
আসলে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকে বারবার হুমকি পাচ্ছেন হুমায়ুন। তার উপর মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তো ধমক-চমক রয়েইছে। এখন আবার নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে তাঁর নিজের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশকর্মীদের নিয়ে। এই প্রেক্ষিতেই নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে হাইকোর্টের দ্বারস্থ তিনি।
রাজনৈতিক মহলে এই শুনানি ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা বিভাজন এবং বিধায়কদের সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতির প্রশ্নও সামনে এসেছে এই মামলার মাধ্যমে।