ফুরফুরার দরবার থেকে রাজনীতির দরজা— সব মিলিয়ে হুমায়ুন–নওসাদ সাক্ষাৎ না হওয়াই যেন নতুন করে উত্তাপ বাড়াল রাজ্য রাজনীতিতে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন দল গঠনের পর এই প্রথম ফুরফুরায় পা রাখলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার একাধিক পীরজাদার সঙ্গে হুমায়ুনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা হল না। আর সেই ‘না–দেখা’ ঘিরেই শুরু রাজনৈতিক চর্চা–তরজা।
জোট হবে কি না— সেই প্রশ্নের মাঝেই চিঠি বনাম ভোট শতাংশ নিয়ে প্রকাশ্যে খোঁচা দিলেন দু’পক্ষই। সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। তাদের সাফ বক্তব্য, হুমায়ুন কবীর কোনও ভাবেই সফল হবেন না।
এদিন জাঙ্গিপাড়ার ফুরফুরায় এসে প্রথমে পীরজাদা সাফেরি সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। পরে দেখা করেন ইব্রাহিম সিদ্দিকীর সঙ্গেও। সেখান থেকে তিনি যান আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর বাড়িতে। উদ্দেশ্য ছিল নওসাদ বা আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করা। কিন্তু প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পরও কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত দরবার শরীফে চলে যান হুমায়ুন।
এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে কি হুমায়ুনের দলের সঙ্গে আইএসএফের জোট হতে চলেছে? নওসাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, “ফুরফুরা ধর্মীয় জায়গা। এখানে যে কেউ আসতে পারেন। উনি যখন এসেছিলেন, আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। জোটের প্রশ্নে আমরা সিপিআইএম ও কংগ্রেসকে চিঠি দিয়েছি। আরও অনেক দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে জোটের ক্ষেত্রে অফিসিয়ালি যোগাযোগ করতেই হবে। তবেই আলোচনা এগোবে।”
এই মন্তব্যের পাল্টা দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ কথা, “অফিসিয়াল কোনটা, সেটা আমি জানি না। আমি ভনিতা করে রাজনীতি করি না। কাউকে চিঠি দেব না। ইচ্ছা হলে বসবে, না হলে বসবে না। চিঠি দিয়ে জোট করার মতো দুর্বল জায়গায় হুমায়ুন কবীর নেই। আমি ওপেন কথা বলি।” পাশাপাশি কটাক্ষ ছুড়ে দেন, “কত শতাংশ ভোট পান যে চিঠি দিতে হবে?”
চর্চার মধ্যেই তোপ দাগেন ফুরফুরার আর এক পীরজাদা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কাশেম সিদ্দিকী। তাঁর মন্তব্য, “ফুরফুরায় যে কোনও দলের লোক আসতেই পারেন। কিন্তু উনি যে উদ্দেশ্যে এসেছেন, তা কোনও ভাবেই সফল হবে না।”
ফুরফুরার দরবার থেকে রাজনীতির দরজা— সব মিলিয়ে হুমায়ুন–নওসাদ সাক্ষাৎ না হওয়াই যেন নতুন করে উত্তাপ বাড়াল রাজ্য রাজনীতিতে।