বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এসএসকেএম হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়েছে। এতে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। ফলে এর গুরুত্ব খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 20 August 2025 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেজুরিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর (Khejuri Case) মামলায় বুধবার কেস ডাইরি জমা দিয়েছে রাজ্য সরকার (State Govt)। তবে আদালত (Calcutta High Court) প্রথম-দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিন আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) জানান, মৃতের বন্ধু, পারফর্মারদের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে মৃতদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, প্রথম ময়নাতদন্ত ভিডিওগ্রাফি সহ করা হয়েছিল। মৃতদেহ ১০০ কিমি দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাই পচন ধরার কারণে শরীরে ক্ষতচিহ্ন দেখা দিতে পারে।
পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, বিদ্যুতের জার্কিং এবং বুকে পাম্পিংয়ের কারণেও মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হতে পারে। তাই দুই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পার্থক্য হওয়ার একাধিক মেডিক্যাল কারণ রয়েছে।
তবে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এসএসকেএম হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়েছে। এতে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। ফলে এর গুরুত্ব খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
মামলাকারীরা সন্দেহের কারণেই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের আবেদন করেছিলেন। সেই সন্দেহ আংশিকভাবে সত্যি হয়েছে বলেই রিপোর্টে প্রতিফলিত হয়েছে। "তদন্তে মানুষের আস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ," মন্তব্য করেন বিচারপতি।
মঙ্গলবারই এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM) হওয়া দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা পড়েছিল আদালতে। সেই রিপোর্ট দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
আসলে প্রথমে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তে বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে দ্বিতীয় রিপোর্ট বলছে, শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্পষ্ট অত্যাচারের প্রমাণ মিলেছে, যা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যুর সঙ্গে মেলে না। এমনকী বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কোনও লক্ষণ দেহে ছিল না।
আগামী শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে।