বিচারপতি এদিন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিবকে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সমস্যার নিষ্পত্তি করতে হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত হলফনামা আকারে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 July 2025 20:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ার (Tollywood) অচলাবস্থা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। কাজ করতে গিয়ে পরিচালকদের যে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় এদিন সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি জানিয়ে দেন, জীবিকা ও কাজের অধিকার সুনিশ্চিত করতে অবিলম্বে সক্রিয় হতে হবে রাজ্যকে।
বিচারপতি এদিন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিবকে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সমস্যার নিষ্পত্তি করতে হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত হলফনামা আকারে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে।
আদালতে এদিন বিক্ষুব্ধ পরিচালকদের আইনজীবীরা জানান, একাধিকবার আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও এখনও টেকনিশিয়ানরা কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। হাইকোর্টে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন পরিচালক কাজ হারিয়েছেন, এমনকি দু’জন মামলা তুলেও নিয়েছেন বলেও দাবি তাঁদের। টেকনিশিয়ানরাও ফেডারেশনের চাপে পড়ে পিছিয়ে আসছেন বলে আদালতে অভিযোগ পেশ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি সিনহা রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেন এতদিনেও কোনও বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি সরকার? কেন আগের নির্দেশ মানা হয়নি? জানতে চাওয়া হয় রাজ্যের আইনজীবীর কাছে। জবাবে রাজ্যের আইনজীবী আদালতকে জানান, ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার একটি দিক এখনও বিচারাধীন থাকায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শীঘ্রই সমস্ত পক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে শুনানি শুরু হবে।
তবে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি আদালত। বরং সাফ নির্দেশ দিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে প্রধান সচিবকে পদক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। টলিপাড়ার শিল্পীদের জীবিকা যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকারকেই।
টলিপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ নিয়ে সংঘাত, চাপে পড়া পরিচালকদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া, এবং সেইপরিপ্রেক্ষিতে আদালতের একাধিক নির্দেশের পরও রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তা— সব মিলিয়ে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে বিতর্কের পরিধি। এবার কি সত্যিই সমাধানের দিকে এগোবে এই জট? তাকিয়ে টলিউডের শিল্পীমহল।