শুভেন্দু বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে ৫০ জনের নাম প্রকাশ করলাম। ইচ্ছে করলে আরও ১,০০০ জনের তালিকা দিতে পারি। সেই প্রস্তুতিও চলছে।’’

শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 8 July 2025 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা আইন কলেজে (Kasba Case) গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় অব্যাহত। এবার আরও বড় বিস্ফোরণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, কসবার ল কলেজের মতো রাজ্যের প্রতিটি কলেজেই ‘ভাইপো গ্যাং’-এর সদস্যরা সক্রিয়, যারা শাসকদলের ছত্রছায়ায় মেয়েদের উপর নির্যাতন এবং টাকা তোলার মতো অপরাধে যুক্ত।
সোমবার শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ করলেন ৫০ জনের একটি তালিকা। দাবি, এরা প্রত্যেকেই রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ‘ভাইপো গ্যাং’-এর সক্রিয় সদস্য। তাঁর অভিযোগ, "এই সব ছাত্ররা ভাইপোর হয়ে টাকা তোলার কাজ করে। মনোজিত মিশ্রের মতো বহু ছাত্রী নির্যাতনকারী আজ কলেজ চত্বরে ক্ষমতার রক্ষাকবচ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।"
শুভেন্দু বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে ৫০ জনের নাম প্রকাশ করলাম। ইচ্ছে করলে আরও ১,০০০ জনের তালিকা দিতে পারি। সেই প্রস্তুতিও চলছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রত্যেক কলেজে একটা করে মনোজিত রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা আজ তলানিতে ঠেকেছে। প্রশাসন সব জেনেও নিশ্চুপ, কারণ এরা সকলেই ‘ভাইপোর’ লোক।’’

সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতার দেওয়া ৫০ জনের নামের তালিকা।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু এও বলেন, "কলেজের ইউনিয়নরুমগুলির এঙেন কার্যকলাপ এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্যই তো ইউনিয়ন রুম বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলতে হয় আদালতকে।"
শুভেন্দু বলেন, "আজ যে ৫০ জনের তালিকা দেওয়া হল তারা প্রত্যেকেই অবৈধ ভাবে চাকরি পেয়েছে। যার জন্য যোগ্যরা বঞ্চিত। সিপিএমের আমলেও বড়ো বড়ো ক্যাডারারও এভাবে যোগদান করেছে। সেই তালিকাও প্রকাশ করব। প্রথমে ক্যাজুয়াল ঢুকিয়ে দেয় তারপর কাজ দেখিয়ে রেগুলার করে দেয়।" এই তালিকায় ২-৪ জন অধ্যাপকও আছেন, যাদের জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঢুকিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু।
একই দিনে কসবা ধর্ষণকাণ্ডে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুম্বই পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার ও বিজেপি সাংসদ সত্যপাল সিং জানান, ‘‘এটাই প্রথম দেখলাম, নির্যাতিতার এফআইআরে অভিযুক্তদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে দিয়ে ‘এম. জে.’ লেখা হয়েছে। পুলিশ নিজের মতো করে অভিযোগ বদলে দিচ্ছে। যেখানে অভিযোগই পালটে দেওয়া হয়, সেখানে কীভাবে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে?’’
প্রতিনিধি দলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হলে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে কোনও বর্তমান বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত করা হোক।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন কসবা আইন কলেজে এক ছাত্রীর উপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় নাম জড়ায় টিএমসিপি নেতা মনোজিত মিশ্র-সহ তিনজনের। ৩০ জুন কলকাতায় এসে তদন্তে নামে বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।
এদিকে শুভেন্দুর এই তালিকা সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। সরকারি মহল এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও, বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।