গত ২৫ জুন কসবার আইন কলেজ চত্বরে কলেজের এক ছাত্রীর উপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। নাম জড়ায় টিএমসিপি নেতা মনোজিৎ মিশ্র-সহ তিনজনের। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেফতারও করে।

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধি দল।
শেষ আপডেট: 8 July 2025 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা আইন কলেজ গণধর্ষণকাণ্ডে (Kasba case) রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি (BJP delegation)। নির্যাতিতার এফআইআরের (FIR) বয়ান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে দিয়েছে পুলিশ’—এমনই দাবি করে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ তথা মুম্বই পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার সত্যপাল সিং।
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, কোনও বর্তমান বিচারপতির নজরদারিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করালে তবেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
সত্যপাল সিং বলেন, "এই প্রথম দেখলাম, এফআইআরে নির্যাতিতার তরফে অভিযুক্তদের যে নাম লেখা হয়েছিল, তা কেটে দিয়ে শুধু 'এম. জে.' লেখা হয়েছে। পুলিশ নিজের মতো করে অভিযোগপত্র বদলে দিয়েছে। যেখানে অভিযোগই পালটে দেওয়া হয়, সেখানে ন্যায়বিচার কীভাবে আশা করা যায়?"
গত ২৫ জুন কসবার আইন কলেজ চত্বরে কলেজের এক ছাত্রীর উপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। নাম জড়ায় টিএমসিপি নেতা মনোজিৎ মিশ্র-সহ তিনজনের। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেফতারও করে। কিন্তু এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এই পরিস্থিতিতে ৩০ জুন কলকাতায় এসে পৌঁছয় বিজেপির চার সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে ওই প্রতিনিধি দল। সেখানেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সত্যপাল বলেন, "বাংলায় আইনের শাসন নেই। সমাজবিরোধীরা শাসকদলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। তাই পুলিশও তাঁদের বিরুদ্ধে নড়াচড়া করতে ভয় পায়। এ রাজ্যে মেয়েরা সুরক্ষিত নন। কসবার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা বর্তমান শাসকের আমলে বেড়ে চলা অপরাধের নমুনা।"
প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তিনি বলেন, “মনোজিৎ মিশ্রর নামে আগেও পুলিশ মারধর, কলেজ চত্বরে অশান্তি—এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ, তাঁর পেছনে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা কলেজ পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান অশোক দেব।”
বিপ্লব দেবের তির্যক মন্তব্য, “আমরা পাকিস্তানের সমালোচনা করি, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছেন। রবীন্দ্রনাথের বাংলায় আজ বিচারহীনতা আর গুণ্ডামি রাজত্ব করছে। এটা কোনও সভ্য সমাজ হতে পারে না।”
কটাক্ষের সুরে এও বলেন, "আইন কলেজ, যেখানে থেকে ভবিষ্যতের বিচারপতিরা তৈরি হন, সেই জায়গাতেই যদি এমন ভয়াবহ অপরাধ ঘটে, তাহলে তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি বলেই প্রমাণ করে। কেন্দ্রীয় সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলব।"
এ প্রসঙ্গে গত বছর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন সত্যপাল। বলেন, “১৩ বছরে বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা তলানিতে ঠেকেছে। তৃণমূল সরকারের একমাত্র লক্ষ্য ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা, মানুষের নিরাপত্তা নয়।”