দাবি একটাই — অবিলম্বে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হোক এবং বিশেষ বিল এনে চাকরি ফেরানো হোক।

চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 4 September 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক দিবসের আগের দিন, হাতে জাতীয় পতাকা, চোখে বিসর্জনের যন্ত্রণা। বিধানসভা চত্বরে দেখা গেল চাকরিহারা শিক্ষক সুমন বিশ্বাসকে (Unemployed Teacher Suman Biswas)। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন চাকরি হারানো প্রার্থী। দাবি একটাই — অবিলম্বে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হোক এবং বিশেষ বিল এনে চাকরি ফেরানো হোক।
বিধানসভার গেটে (West Bengal Assembly) পুলিশ আটকে দিলেন তাঁদের। কিন্তু তাতেও থামেনি সুমনের আন্দোলনের ঝাঁঝ। স্পষ্ট ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্দেশে সুমনের আবেদন, “এটা জেদের সময় নয়, শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচান। ৭ সে্টেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত করে বিশেষ বিল এনে যোগ্যদের চাকরি ফেরান। আমরা অন্তর থেকে মৃত হয়ে বসে রয়েছি।”
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Corruption Case) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় স্পষ্ট — কালো তালিকাভুক্তরা আর পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই রায়ের জেরে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়। তার মধ্যেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা — “যাঁরা আর শিক্ষক হতে পারবেন না, তাঁদের গ্রুপ C-তে সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।”
এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, সরকার আসলে দাগিদেরই রক্ষা করতে চাইছে। সুমন বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া, “যদি মুখ্যমন্ত্রী দাগিদেরই বাঁচাতে চান, তাহলে আর কিছু বলার নেই। আমাদের অবস্থাটা করুণ। শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার যোগ্যদের রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর আশেপাশের লোকেরা বারবার তাঁকে ভুল বোঝাচ্ছেন।”
এখানেই থামেননি সুমন। প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি আমাদের শিক্ষকের বদলে শিক্ষাকর্মী করে দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষাকর্মীরা কী করবে? আজ অনেক যোগ্য প্রার্থী রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন, অনেকে স্ত্রী হারিয়েছেন, সংসার ভেঙে গিয়েছে। এটা একটা সামাজিক অবক্ষয়। আমরা অলরেডি মরে বসে আছি।”
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নের মুখে। আর সেই উত্তরের খোঁজেই জাতীয় পতাকা হাতে পথে নামছেন একের পর এক ‘যোগ্য’ চাকরি হারানো তরুণ-তরুণী। শিক্ষক দিবসের আগে তাঁদের এই আর্তি, শিক্ষার রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।