বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার এবং বাংলা ভাষার অপমানের প্রতিবাদে গান্ধীমূর্তির সামনে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা করেছিল তৃণমূল এবং সেই অনুযায়ী মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 4 September 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের প্রতিবাদ মঞ্চ (TMC Stage) খোলা নিয়ে ভারতীয় সেনার (Indian Army) এক কথায় সমালোচনা করেছে শাসক শিবির। ঘটনাস্থলে পৌঁছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ক্ষোভের সুরে বলেছিলেন, এই কাজ সেনার নয়, বিজেপির (BJP) কথায় তাঁরা কাজ করছে। স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্যের পর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই বিতর্কের আগুনে আরও ঘি পড়ল কারণ প্রাক্তন সেনাকর্মীরা (Ex Army) প্রতিবাদে ধর্নায় বসতে চলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের বিরোধিতায় প্রাক্তন সেনা আধিকারিকদের একাংশ ধর্নায় বসতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আর আগামী সোমবার মেয়ো রোডে তাঁদের ধর্নায় বসার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ৮ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি বলে জানা গেছে।
বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার এবং বাংলা ভাষার অপমানের প্রতিবাদে গান্ধীমূর্তির সামনে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা করেছিল তৃণমূল এবং সেই অনুযায়ী মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেনা মঞ্চ খুলতে এসে দাবি করে, এই এলাকায় টানা এতদিন মঞ্চ বেঁধে রাখা যাবে না। এটা বেআইনি। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁরা মঞ্চ খুলে দেয়। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূল দাবি করে, এজেন্সি, নির্বাচন কমিশন দিয়ে না পেরে শেষে তাঁদের ঠেকাতে সেনাকে ব্যবহার করছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বলেন, সেনা বিজেপির কথায়, তাদের বুদ্ধিতে এই কাজ করেছে। তবে সংযম বজায় রেখে তাঁকে এও বলতে শোনা যায়, তিনি সেনাকে দোষারোপ করছেন না। বরং তাঁদের জন্য তিনি বাকিদের মতোই গর্বিত। কিন্তু এতে খুব একটা কাজ হয়নি। বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরা কড়া আক্রমণ শুরু করেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিধানসভাতেও শোরগোল হয়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারতীয় সেনাকে অপমান করার সাহস দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জবাব মানুষ দেবে। এই প্রেক্ষিতেই তিনি তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তান সেনার কর্মকাণ্ডের তুলনা টানায় হইচই পড়ে যায়। বিজেপি তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করে হইহট্টগোল শুরু করলে বিধানসভার অধ্যক্ষ শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করে দেন। যে বিষয় নিয়ে আবার আলাদা করে বিতর্ক।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) বলেছেন, অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার ভেতরে ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সেই দিনের জন্য সাসপেন্ড। অথচ বাইরে তিনি জানান, এই সেশন অর্থাৎ আজকে পর্যন্ত তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোনটা ঠিক, এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এতএব স্পষ্টত বিষয়টি নিয়ম মেনে করা হয়নি বলেই দাবি তাঁর।