আইবুড়ো ভাতের আনন্দের মাঝেই নেমে এল শোক। জেঠিমার মৃতদেহ ফ্রিজারে রেখে ছাঁদনাতলায় গেলেন বর! দাসপুরের ঘটনায় তোলপাড়।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 4 February 2026 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান ঘিরে আনন্দে মেতেছিল গোটা বাড়ি। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় শোকে। হবু বরের আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর জেঠিমা রিতা আলু (৬০)-র। তবু পরিস্থিতির চাপে জেঠিমার মৃতদেহ পাড়ার একটি ক্লাবের ফ্রিজারে (dead body in freezer) রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন বর সৌরেন আলু। এই ঘটনাকে ঘিরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে।
ঘাটাল মহকুমার দাসপুরের চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা সৌরেন আলু। পাশের বাড়িতেই থাকতেন তাঁর জেঠিমা রিতা আলু। আচমকা তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। রিতার ছয় মেয়ে— সকলেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং তাঁরা প্রত্যেকেই দাসপুরের বাইরে থাকেন। খবর পেয়ে তাঁরা রওনা দিলেও মায়ের সৎকাজ সম্পন্ন করতে তাঁদের পৌঁছোতে সময় লাগছিল।
পরিবারের দাবি, সেই কারণেই আপাতত জেঠিমার মৃতদেহ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাড়ার একটি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে, তাদের অনুমতি নিয়েই ফ্রিজারে মৃতদেহ রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, মৃতার জামাই ও মেয়েরা অনুরোধ করেছিলেন, তাঁরা না আসা পর্যন্ত যেন দাহ না করা হয়।
এদিকে জেঠিমার মৃতদেহ ফ্রিজারে রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয় জোর চর্চা। অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্বাভাবিক ও হৃদয়বিদারক বলে মনে হয়েছে। তবে সৌরেনের পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর কষ্ট বুকে চেপেই তাঁদের বিয়েবাড়ির আয়োজন চালিয়ে যেতে হয়েছে।
বরের বৌদি সরস্বতী আলু বলেন, “আমাদের খুব খারাপ লাগছে। আমার কাকিমা চলে গিয়েছেন। কিন্তু ওঁর মেয়েরা আর জামাইরা বলেছেন, তাঁরা না এলে যেন দেহ দাহ করা না হয়। কোথাও দেহ রাখার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই।”