শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া রুখতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। বিরোধী দলনেতার কথায়, শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ‘বিগ জিরো’ পেয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 4 February 2026 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় (Supreme Court SIR Hearing) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরাসরি সওয়াল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এবার এই প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া রুখতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। বিরোধী দলনেতার কথায়, শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ‘বিগ জিরো’ পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আদালতে গিয়ে একাধিক দাবি তুললেও তার কোনওটিই কার্যকর হয়নি।
বিরোধী দলনেতার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আদালত সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। একই সঙ্গে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ সংক্রান্ত যে আপত্তি তোলা হয়েছিল, সেটিও আপাতত কোনও ফল দেয়নি বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, আদালতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা সহজে বদলানো যাবে না।
এছাড়াও আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার প্রশ্নেও মুখ্যমন্ত্রী সফল হননি বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর মতে, এই ইস্যুতে আদালতে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং এতে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই প্রক্রিয়ার ফলে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ছিল এবং আইনি ক্ষেত্রে তার কোনও বাস্তব ফল হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেন বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর। আগামী সোমবার সেই মামলার শুনানি হতে পারে। সেদিন কী হয় শীর্ষ আদালতে, তার দিকেই এখন সকলের নজর।