পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে মনোনীত করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হলেও তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে কমিশন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 4 February 2026 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Elections) ঘিরে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে মতপার্থক্যের ইস্যুতে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, ইসিআই-কে (ECI) চমকানো যায় না।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভার (Central Observer) হিসেবে মনোনীত করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হলেও তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে কমিশন।
এই বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা যায় না। শুভেন্দুর কথায়, যাঁদের কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতেই হবে এবং এই বিষয়ে কমিশনের পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আধিকারিকদের তালিকা চেয়ে নবান্নকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও সাড়া না মেলায় কমিশন নিজের উদ্যোগেই ২৫ জন আধিকারিকের তালিকা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে রাজ্যের পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়লেও কমিশন তা নাকচ করে দেয়।
প্রসঙ্গত, কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের নাম রয়েছে। নবান্নের দাবি ছিল, ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা আধিকারিকদের বাইরে পাঠানো হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হলে প্রশাসনিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই কারণেই বিকল্প নাম প্রস্তাব করে ১৭ জন আধিকারিককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে তাঁদের নির্ধারিত দিন ও সময় মেনে ব্রিফিং বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য এই বৈঠক ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এই সিদ্ধান্ত দ্রুত সমস্ত আধিকারিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক স্তরে কোনও বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।