পুকুরে বা নদীতে স্নানের অভ্যাস থাকলে সাবধান। অপরিষ্কার জলে নামা মানেই বিপদ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাক দিয়ে শরীরে ঢোকার কথা ছিল পাকস্থলীতে। কিন্তু ভয়ঙ্কর অ্যামিবা (Amoeba) পৌঁছে যায় সোজা মাথায়। দিন কয়েকের মধ্যেই কুরে কুরে খেতে শুরু করে মস্তিষ্কের (Brain,) অন্দর, ধ্বংস করে দেয় স্নায়ুতন্ত্র। চিকিৎসাশাস্ত্রে এর নাম— ব্রেন ইটিং অ্যামিবা।
কেরলে চলতি বছরেই এই মারণ সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন শিশু-সহ অন্তত ১৯ জন। করোনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাতেও মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কেরলে ছড়াচ্ছে Primary Amoebic Meningoencephalitis (PAM), আর বাংলায় দেখা দিচ্ছে Granulomatous Amoebic Encephalitis (GAE)।
কোথা থেকে আসে এই অ্যামিবা?
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা— দায়ী এককোষী প্রাণী Naegleria Fowleri। কখনও কখনও Acanthamoeba নামের প্রজাতিও কারণ হতে পারে। এরা বাসা বাঁধে উষ্ণ মিষ্টি জল ও ভিজে মাটিতে। অপরিষ্কার পুকুর, নদী, কিংবা দীর্ঘদিন অশোধিত সুইমিং পুল— সবই হতে পারে এর আঁতুড়ঘর।
সেখানে সাঁতার কাটলে বা স্নান করলে নাক-মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে অ্যামিবা। কয়েক দিনের মধ্যেই মস্তিষ্কে ছড়িয়ে ভয়াবহ ক্ষতি করে।
কী কী উপসর্গ?
প্রথমে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি, খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ। উপসর্গ ব্যাকটিরিয়াল মেনিনজাইটিসের মতো হওয়ায় অনেক সময়ে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।
পরিসংখ্যান ভয় ধরাচ্ছে
সারা বিশ্বে এতদিন এই সংক্রমণের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০০। অথচ গত দেড় বছরে শুধু কেরলেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১২০ জন! চলতি বছরে আক্রান্ত ৬৯ জনের মধ্যে ১৯ জন মারা গিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে আছেন ৩ মাসের শিশু থেকে ৫২ বছরের প্রৌঢ়ও।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
পুকুরে বা নদীতে স্নানের অভ্যাস থাকলে সাবধান। অপরিষ্কার জলে নামা মানেই বিপদ। নিয়মিত জল শোধন করা সুইমিং পুল ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সচেতনতা আর সতর্কতাই এখন বাঁচার একমাত্র উপায়।