এদিন বিচারকও মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন—ইডি যখন আয়কর রিটার্নের তথ্য চেয়েছিল, তখনই কেন তিনি তা জমা দেননি? অসহযোগিতার কারণ কী?

কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন বিপুল সম্পত্তি, তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রভাবশালী হওয়ার অভিযোগ—রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার (Prison minister Chandranath Sinha jailed) অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের আবেদন জানিয়েছিল ইডি। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে টানা ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে চলল যুযুধান দু'পক্ষের সওয়াল। তবে এদিন রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। আদালত জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার দুপুর দুটোয় চূড়ান্ত রায়দান হবে।
অর্থাৎ মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর থাকবে নাকি তা খারিজ হয়ে যাবে, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
তবে এদিন আদালত থেকে বেরোনোর সময় তাঁর বিরুদ্ধে ইডির আনা প্রভাবশালী তত্ত্ব খারিজ করে মন্ত্রী বলেন, "আমি প্রভাবশালী নই।" তিনি তদন্তে কোনও ধরনের অসহযোগিতা করেননি বলেও দাবি করেন। আইনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছেন বলেও জানান।
যদিও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Corruption Case) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন চন্দ্রনাথ। ২০১৬ সালের শেষের দিকে বিপুল অঙ্কের টাকা নগদে নিয়েছিলেন তিনি।
ইডি আদালতে জানায়, ২০২৪ সালে বোলপুরে মন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল। অভিযোগ, তার নির্দিষ্ট কোনও হিসেব দিতে পারেননি চন্দ্রনাথ। আয়কর রিটার্নের নথিও সময়মতো জমা দেননি। তবে গত ৬ অগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পরই তড়িঘড়ি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রী নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে মাত্র ১৯ লক্ষের হিসেব দেখান তিনি।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ১৯ লক্ষ টাকার উৎসও স্পষ্ট নয়। কৃষি কাজ ও রিয়েল এস্টেট থেকে টাকা এসেছে বলে দাবি করলেও তার সপক্ষে কোনও নথি দেখাতে পারেননি মন্ত্রী। ইডির অভিযোগ, শুধু মন্ত্রী নন, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের অ্যাকাউন্টেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা হয়েছে।
চার্জশিটের ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পাতায় ইডির দাবি, আয়কর মেটাতে মন্ত্রী ৯০ লক্ষ টাকা জরিমান দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা এল কোথা থেকে, তার কোনও জবাব দিতে পারেননি তিনি। আয়কর রিটার্ন ও প্রকৃত আয়ের মধ্যে বিস্তর গরমিল ধরা পড়েছে।
প্রসঙ্গত, বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দিতেই প্রথম উঠে আসে মন্ত্রীর নাম। এরপর চন্দ্রনাথের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে একাধিক বড়সড় লেনদেনের হদিস পায় ইডি।
ইডি-র দাবি, প্রায় ১৫৯ জন প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন মন্ত্রী। অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১২.৭২ কোটি টাকা। কিন্তু এত বিপুল অর্থ কোথায় গেল, তার কোনও উত্তর এখনও মেলেনি। তদন্তকারীদের দাবি, হেফাজতে নিয়ে জেরা করলেই প্রকৃত তথ্য সামনে উঠে আসবে।
যদিও আদালত থেকে বেরোনোর সময় গুরগম্ভীর কণ্ঠস্বরে মন্ত্রী বলেন, "আপনারা তো আদালতের ভেতরে ছিলেন, সবটা দেখলেন। আইনের প্রতি আমার আস্থা আগেও ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।"
এখন দেখার, মঙ্গলবার আদালত কী রায় দেয়। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল।