এখন নজর কমিশনের দিকে — অসুস্থদের ক্ষেত্রে কতটা ছাড় মেলে, সেটাই দেখার
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের (Election Commission, Oikyamancha , sick people) হুঁশিয়ারি কাজে এল। নির্ধারিত সময় বেলা বারোটার আগেই কাজে যোগ দিলেন অনিচ্ছুক ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLO) বড় অংশ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি, তাঁদের নামের তালিকা বৃহস্পতিবার বিকেলেই কমিশনের হাতে পৌঁছবে। এর পর শুরু হবে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া।
মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২ রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত বহু বিএলও কাজে যোগ না দেওয়ায় কড়া মনোভাব দেখায় কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয় — বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে দায়িত্ব না নিলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা অনিবার্য। এরপরই অনিচ্ছুক বিএলও-রা কাজে যোগ দিয়েছেন বলে খবর।
বিএলও এক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, "১৪৫ জন বিএলও কাজে যোগ না দিলে সাসপেন্ড এবং বিভাগীয় তদন্ত করা হবে, বলে কমিশন জানিয়েছিল। এরপরই অধিকাংশ কাজে ফিরেছেন। তবে যদি কেউ অসুস্থ থাকে বা রাজনৈতিক পরিচিতি থাকে তারা তো কাজ করতে পারবে না, সেটা তো কমিশনের নির্দেশে রয়েছে। আর যাঁরা অসুস্থ তাঁদের অব্যহতির আর্জি জানানো হয়েছে।"
বিশেষ নজর ছিল শিক্ষক সমাজের উপর। কারণ, এবারও রাজ্যের বহু স্কুলশিক্ষককে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের রিপোর্টে উঠে আসে, তাঁদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে গতি আনতে সমস্যায় পড়ছিল প্রশাসন।
কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “বিএলওদের কাজ ভোটার তালিকার ভিত মজবুত করা। দায়িত্বে গাফিলতি মানে গোটা প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়ে যাওয়া।”
প্রতিটি জেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল — ৩০ অক্টোবরের মধ্যে কেউ কাজে যোগ না দিলে তাঁর নামের তালিকা পাঠাতে হবে কমিশনে। সেই নির্দেশের পরই হুঁশিয়ারি কার্যকর হতে শুরু করে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই একের পর এক অনিচ্ছুক বিএলও কাজে ফিরছেন।
তবে যাঁরা গুরুতর অসুস্থ, তাঁদের জন্য ব্যতিক্রম চেয়ে আবেদন করেছে বিএলও ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, “যাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাঁদের যেন জোর করে কাজে টানা না হয়।” একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
এখন নজর কমিশনের দিকে — অসুস্থদের ক্ষেত্রে কতটা ছাড় মেলে, সেটাই দেখার