এসআইআর (SIR, Centre, Election Commission) নিয়ে শুক্রবার দিল্লিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেদিন তৃণমূলের তরফে কমিশনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল।
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 1 December 2025 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) নিয়ে শুক্রবার দিল্লিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেদিন তৃণমূলের (TMC) তরফে কমিশনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। ৭২ ঘণ্টা পরেও কমিশন যার জবাব দেয়নি বলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশন (Centre Election Commission) এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেক বলেন, ‘‘পাঁচটা প্রশ্ন ছেড়ে দিন। কমিশন যদি প্রকাশ করতে পারে, একটি প্রশ্নেরও উত্তর তারা দিয়েছে, তা হলে টানতে টানতে কোর্টে নিয়ে যাব। আমাদের হাতে ডিজিটাল এভিডেন্স রয়েছে। আমি হাওয়ায় কথা বলি না।’’
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপির বুথস্তরে সংগঠন নেই। ভাবছে এসআইআর এর মাধ্যমে কমিশনের ঘাড়ে ভর দিয়ে বাংলা দখল করবে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এসআইআর এর পরও ২৬ সালের ভোটে বাংলায় তৃণমূলের আসন এবং ভোট সংখ্যা দুটোই বাড়বে।
এখানেই না থেমে মোদী সরকারের উদ্দেশে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, "আর সেটা হলে বাংলার মানুষের টাকা সাতদিনে ছাড়তে হবে। ক্ষমতা থাকলে বিজেপি চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করছে না কেন?"
কমিশনের সময়সীমা বাড়ানোকে 'বিলম্বিত বোধদয়' বলে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “কমিশনকে আমরা পাঁচটি প্রশ্ন দিয়েছিলাম। একটিরও উত্তর নেই। কারণ, ওরা জানে যে কাজটা করছে সেটা বেআইনি।" কমিশনের উত্তর না পেলে কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
বিজেপির বক্তব্য, বাংলায় নাকি সওয়া ১ কোটি ভুয়ো ভোটার রয়েছে। এসআইআর হলে সেই নাম বাদ যাবে, আর তৃণমূলের পতন অবশ্যম্ভাবী। এই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “আপনারা বলছেন ভোটার লিস্টে ম্যানিপুলেশন আছে। তার সঙ্গে এই তাড়াহুড়োর সম্পর্ক কী? এই ভোটার লিস্টেই তো আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। তাছাড়া এসআইআরের উদ্দেশ্য কী? বেআইনি অনুপ্রবেশকারী তাড়ানো যদি প্রধান উদ্দেশ্য হয় তাহলে ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, নাগারাম, মিজোরাম, মণিপুর- সীমান্ত জেলা, যেখান দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে সেখানে এসআইআর হচ্ছে না কেন?
অভিষেকের কথায়, কমিশনের তাড়াহুড়ো এব বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কের পরিবেশের জেরেই একাধিক বিএলও-সহ বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দাবি, "বিএলও আত্মহত্যা করেছে, তার সুইসাইড নোটে লেখা, মৃত্যুর জন্য দায়ী কমিশন। তারপরও কেন তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে? আর এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চাইলে বলা হচ্ছে, নাটক করা হচ্ছে। কারা নাটক করছে সেটা দেশের লোক দেখছে। সময়েই মানুষ এর উত্তর দেবে।"
বিজেপিকে ফের 'বাংলা বিরোধী', 'জমিদারের দল' সম্বোধন করে অভিষেক এদিন তুলে ধরেন বাংলা বঞ্চনার প্রসঙ্গও। গত সাত বছরে জিএসটি বাবদ বাংলা থেকে কত টাকা তুলে নিয়ে গেছে কেন্দ্র তার পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ২০১৭-১৮ সালে ৬৩ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ সালে ৮৪ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ সালে ৮৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা, ২০২০-২১ সালে (কোভিডের সময়) ৮০ হাজার ৪ কোটি টাকা, ২০২১-২১ সালে ১ লক্ষ ১ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ সালে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৬২১ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ সালে ১ লক্ষ ২২ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা নিয়ে গেছে কেন্দ্র। সাত বছরে বাংলার মাটি থেকে বাংলা বিরোধী জমিদারের সরকার ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে, তারপরও বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। আদালত বলার পরও ১০০ দিনের টাকা দেয়নি। আসলে ওরা বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাকে গলা টিপে মারা, ভাতে মারা এটাই ওদের লক্ষ্য।
টেনে এনেছেন নোট বন্দির প্রসঙ্গও। অভিষেকের কথায়, "নোটবন্দির সময় মোদীর কোনও মন্ত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিয়েছিল? টাকার লাইনে দাঁড়িয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার দায় কে নেবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কালো টাকা উদ্ধার হবে, মানুষের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে সেই টাকা। কোথায় সে সব প্রতিশ্রুতি?"
খানিক থেমে যোগ করেছেন, "বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বাংলার মানুষ দেখেছেন বিজেপির ভাঁওতা প্রতিশ্রুতি। তাই একুশের মতো এবারেও ওদের বাংলা দখলের স্বপ্ন অধরায় থাকবে।"