কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে বিজেপির অভিযোগ, 'শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বহু বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা বাসে করে যাচ্ছিলেন।

কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিজেপির (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 15 March 2026 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) মেগাসভার দিনই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যায় কলকাতার গিরীশ পার্কে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Sashi Panja) বাড়িতে হামলার ঘটনায় আক্রান্ত হয় পুলিশও। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচনের কমিশনের (ECI) দ্বারস্থ হল বিজেপি (BJP)। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিকভাবে ব্যবহার না করা (Misuse of CAPF) নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে বিজেপির অভিযোগ, 'শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বহু বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা বাসে করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় গিরিশ পার্ক এলাকায় তাদের উপর ব্যাপক ইটবৃষ্টি ও হামলা হয়। এতে বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন এবং অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।'
চলতি মাসেই রাজ্যে মোতায়েন হয়েছে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, ঘটনার সময় তাদের কোথাও দেখা যায়নি। এমনকি কলকাতা পুলিশ আগেই সম্ভাব্য অশান্তির খবর পেয়েছিল এবং ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিল, তবুও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সেখানে মোতায়েন করা হয়নি বলে দাবি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এর আগেও ৯ মার্চ বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে অভিযোগ করেছিল যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্রয়োজনীয় জায়গায় না পাঠিয়ে শান্তিপূর্ণ এলাকায় রুট মার্চ করানো হচ্ছে। ১৪ মার্চের ঘটনাটি সেই অভিযোগেরই প্রমাণ বলে দাবি করেছে তারা।
গিরীশ পার্কের ঘটনাকে (Girish Park incident) কেন্দ্র করেই বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন না করার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' পাশাপাশি ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
গিরীশ পার্ককাণ্ড
শনিবার সকালে উত্তর কলকাতার (Kolkata) বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে ব্রিগেডের (Brigade) দিকে যাচ্ছিলেন। গিরিশ পার্কে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় উত্তেজনার সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ, ব্রিগেডে (Brigade) যাওয়ার নাম করে বিজেপি আশ্রিত ‘দুষ্কৃতীরা’ পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার (Sashi Panja) বাসভবনকে নিশানা করে। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ও সদর দরজার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।
পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিতে তৃণমূল কর্মীরা (TMC workers) আগে থেকেই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে জমায়েত করেছিল। তাদের দাবি, পুলিশ নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল এবং শাসকদলের কর্মীরাই মিছিল লক্ষ্য করে প্রথম পাথর ছোড়ে। যার জেরে বিজেপির উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই খণ্ডযুদ্ধ বাধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকার পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সন্ধ্যায় সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (Suo Moto case) দায়ের করে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক (Abhishek Banerjee) লিখেছেন, "এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর উপর হামলা নয়, বরং বাংলার নারীদের উপর আক্রমণের একটি নিন্দনীয় দৃশ্য। পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।"