অনুব্রতর এই ধরনের বক্তব্যকে দল সমর্থন করে না জানিয়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল।

শুভেন্দু অধিকারী ও অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করার অভিযোগ উঠেছে বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল (দ্য ওয়াল সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি)।
ওই ঘটনায় অনুব্রতর গ্রেফতারি চেয়ে শুক্রবার দুপুর থেকে পথে নেমেছে বীরভূমের বিজেপি। বিজেপির দাবি, অবিলম্বে অনুব্রতকে গ্রেফতার করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, "ক্ষমা চাওয়ার ন্যাকামি নয়, অনুব্রতকে গ্রেফতার করতে হবে।"
প্রসঙ্গত, অনুব্রতর এই ধরনের বক্তব্যকে দল সমর্থন করে না, তা জানিয়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। তা না হলে দলের তরফে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তরফে ইতিমধ্যে অনুব্রতর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
তবে বিজেপির সাফ কথা, এসব ন্যাকামি চলবে না। যেভাবে পুলিশের এক অফিসারকে গালিগালাজ করা হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করা হোক।
এই দাবিতে এদিন দুপুর থেকেই বীরভূম পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছে জেলা বিজেপি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসপিকে অফিসে তীব্র উত্তেজনার পরিবেশও তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "তৃণমূল যে পুলিশকে তাদের দলদাসে পরিণত করেছে, এঘটনা তারই প্রমাণ। যে অফিসার ওদের কথা মতো চলেন না, তাঁকেই এভাবে গালিগালাজ করা হয়। তাই ক্ষমাৈ চাওয়ার ন্যাকামি নয়, কেষ্টকে গ্রেফতার করুক পুলিশ।"
বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই সোশ্যাল মাধ্যমে অনুব্রতর এই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। অডিও ক্লিপে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। সূত্রের খবর, যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়।
এরপরই নবান্নের নির্দেশে শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনএস আইনের চারটি ধারায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ধারা গুলি হল ২২৪, ১৩২, ৩৫১ ও ৭৫।