ফোন চলাকালীন অনুব্রত মণ্ডল আবার পুলিশ কর্তা রাজীব কুমারকে ফোনে ধরেন বলে শোনা যায়। তবে রাজীব কুমারের কথা শোনা যায়নি অডিও ক্লিপে।

শেষ আপডেট: 30 May 2025 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়। দ্য ওয়াল সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি। তবে অডিও ক্লিপে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। সূত্রের খবর, যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়।
তার পর দেওয়াল লিখন একেবারে পরিষ্কারই ছিল। নবান্নের নির্দেশে শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনএস আইনের চারটি ধারায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ধারা গুলি হল ২২৪, ১৩২, ৩৫১ ও ৭৫।

গত ২৬ মে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে বোলপুরে একটি মিছিল করেন অনুব্রত মণ্ডল। সূত্রের খবর, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার ওই মিছিলের ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপারের কাছে একটি রুটিন রিপোর্ট দেন। তাতে তিনি বলেন, বোলপুরে অনুব্রতর মিছিলে ১২ হাজারের মতো জমায়েত হয়েছিল। অনুব্রতর রাগের কারণ সম্ভবত সেটাই। কারণ, তাঁর দাবি লোক হয়েছিল অনেক বেশি।
এর পরই সম্ভবত ২৮ তারিখ রাতে বোলপুর থানার আইসিকে ফোন করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেন অনুব্রত। সেই কথোপকথন বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে। ফোন চলাকালীন অনুব্রত মণ্ডল আবার পুলিশ কর্তা রাজীব কুমারকে ফোনে ধরেন বলে শোনা যায়। তবে রাজীব কুমারের কথা শোনা যায়নি অডিও ক্লিপে। তাই এর সত্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এই ভাইরাল হওয়া ফোনালাপটি শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, রাজ্যের দুর্দমনীয় এবং দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের চাদরের তলায় কিভাবে ভয়াবহ সমাজবিরোধী ত্রাস'রা সযত্নে সুরক্ষিত রয়েছে!
“বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘ”, যার কিনা মাঝে মধ্যেই ব্রেইনে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় - তিনি একজন… pic.twitter.com/GOoXBGgt3o— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) May 29, 2025
তবে এ ঘটনার পরই পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি পুলিশকে এই ভাবে গালমন্দ করে তাহলে পুলিশের মনোবল ভেঙে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মত অনেকেরই। আবার বিরোধীরাও বিষয়টিকে লুফে নিয়ে তৃণমূলের এক শ্রেণির নেতার সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনায় নামে। ফলে সামগ্রিক ভাবেই নবান্নের উপর চাপ তৈরি হয়।
শেষমেশ দেখা যায়, শুক্রবার দুপুরে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করে নবান্ন। পুলিশ দফতর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে রয়েছে। সূত্রের দাবি, নবান্নের নির্দেশের পর অনুব্রতর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।