বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে নোংরা ভাষায় গালমন্দ করার জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে ভর্ৎসনা করল তৃণমূল। শুক্রবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই সব কথা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

শেষ আপডেট: 30 May 2025 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে নোংরা ভাষায় গালমন্দ করার জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে ভর্ৎসনা করল তৃণমূল। শুক্রবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই সব কথা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
এই ভাইরাল হওয়া ফোনালাপটি শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, রাজ্যের দুর্দমনীয় এবং দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের চাদরের তলায় কিভাবে ভয়াবহ সমাজবিরোধী ত্রাস'রা সযত্নে সুরক্ষিত রয়েছে!
“বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘ”, যার কিনা মাঝে মধ্যেই ব্রেইনে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় - তিনি একজন… pic.twitter.com/GOoXBGgt3o— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) May 29, 2025
তৃণমূলের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “অনুব্রত মণ্ডল একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গে আমাদের দল সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছে এবং এই মন্তব্যকেও সমর্থন করছে না। আমরা তাঁর অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য-অশ্রাব্য ভাষার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি”। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “দল তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছে, তিনি যেন আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চান, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হবে”।
বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়। সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। তবে অডিও ক্লিপে শোনা যায় বোলপুর থানার পুলিশ কর্তা তথা আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়।
এর পর শুক্রবার দুপুর থেকে যৌথ ভাবে পদক্ষেপ করে সরকার ও শাসক দল। নবান্নের শীর্ষ সূত্রের মতে, অনুব্রতর এই আচরণের যারপরনাই ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা ঠিক যে অনুব্রতর সাংগঠনিক ক্ষমতা ও দলের প্রতি নিষ্ঠার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সময়ে তাঁর প্রতি স্নেহশীল ছিলেন। অনুব্রতর জেল হেফাজতের সময়েও তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। আর সেই কারণে অনুব্রতকে বিরোধীরা এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুড়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। সুকান্ত মজুমদাররা স্পষ্ট বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়েই এরকম বাড় বেড়েছেন কেষ্ট মণ্ডল। কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, সার্বিক এই অবস্খায় প্রবল ক্ষুব্ধ মমতা। তিনি মনে করছেন, কিন্তু এই স্নেহের সুযোগ নিয়ে অনুব্রত যা করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য।
বস্তুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ পাওয়ার পরই শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডল ওয়াই ক্যটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর নিরাপত্তার বহর কমানো হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, আইসি লিটন হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনএস আইনের চারটি ধারায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ধারা গুলি হল ২২৪, ১৩২, ৩৫১ ও ৭৫।