শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হওয়ার পরপরই জানিয়েছিলেন, দল বললে ত্রাণ দিতে ফের তিনি নাগরাকাটায় যাবেন।

শঙ্কর ঘোষ
শেষ আপডেট: 11 October 2025 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি (North Bengal Flood) পরিদর্শনে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিজেপির (BJP) দুই জনপ্রতিনিধি! পাথরের ঘায়ে চোখের নীচের হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সাংসদ খগেন মুর্মুর (Khagen Murmu)। হেনস্থা করা হয়েছিল শঙ্কর ঘোষকেও (Shankar Ghosh)। খগেন এখনও হাসপাতালে ভর্তি, ক'দিন হল শঙ্কর চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। শরীর খানিকটা ঠিক হতেই তিনি ফের ত্রাণ নিয়ে হাজির হলেন নাগরাকাটায়। ঠিক যেখানে তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছিল কয়েকজন হামলাকারী।
শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হওয়ার পরপরই জানিয়েছিলেন, দল বললে ত্রাণ দিতে ফের তিনি নাগরাকাটায় যাবেন। কথা মতো শনিবারই ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহায়-সম্বলহীনদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক। ত্রাণ তুলে দেন।
গত সোমবার দুর্যোগকবলিত নাগরাকাটায় একাধিক এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বামনডাঙায় ঢোকার আগে বিক্ষোভের মুখে পড়েন দু’জনে। লাঠি, জুতো নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হন কয়েকশো মানুষ। নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ করে ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তাতেই চোখের নীচের হাড় ফেটে যায় খগেনের। গলগল করে রক্ত ঝরতে থাকে। ধাক্কা দেওয়া হয় শঙ্করকেও। তড়িঘড়ি দুই নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করতে হয়।
হামলার ঘটনায় বিজেপি সরাসরি দোষারোপ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে। এক ভিডিও বার্তায় শঙ্কর বলেন, ‘‘আমাদের গাড়ির সমস্ত কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। খগেনদা রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন। গাড়ির কোনও কাচ বাকি নেই। আপাতত খগেনদাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাচ্ছি।’’ বিধায়কের পোস্ট করা ওই ভিডিওয় দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির মধ্যে বসে রয়েছেন খগেন। রক্তে তাঁর পাঞ্জাবি ভিজে গিয়েছে। গাড়ির প্রায় সমস্ত কাচও ভেঙে গিয়েছে।
শঙ্কর আরও বলেন, ‘‘আমরা ত্রাণ দেওয়ার কাজে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম। শমীকদারা বোটে করে নদীর ও পারের মানুষদের সঙ্গে দেখা করতে যান। আমরা এ পারেই ছিলাম। তখন কিছু লোক ‘দিদি’র কথা বলে আমাদের ঘিরে ধরে। প্রথমে গালিগালাজ, পরে পিছন থেকে মারধর শুরু করে। মাথা সিটের নীচে ঢুকিয়ে দিয়ে কোনওমতে বেঁচেছি।’’
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খানিকটা সুস্থ হলেই তাঁর চোখের নীচের ভাঙা হাড়ের অস্ত্রোপচার করা হবে। অন্যদিকে, ক'দিন হল বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ছাড়া পেয়েছেন, আর শনিবার সুযোগ পেয়েই বামনডাঙায় পৌঁছে গেলেন ত্রাণ বিলি করতে।