গত সোমবারের ঘটনায় খগেন মুর্মুর বাঁ চোখের নীচের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির হাসপাতালে গিয়ে খগেনকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শঙ্কর ঘোষ এবং খগেন মুর্মু
শেষ আপডেট: 8 October 2025 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির (North Bengal Floods) কারণে নাগরাকাটায় (Nagrakata) ত্রাণ বিলি করতে গেছিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) এবং সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu)। কিন্তু সেখানে হামলার শিকার হন তারা। সোমবারের ঘটনার পর হাসপাতালে (Hospital) ভর্তি ছিলেন দুজন। তবে বুধবার শঙ্কর ঘোষ ছাড়া পেয়েছেন। কিন্তু খগেন মুর্মুকে এখনও ভর্তি থাকতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শঙ্করের তাঁর ডান হাতের লিগামেন্টে আঘাত থাকলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে আপাতত বিশ্রামে থাকতে হবে তাঁকে। অন্যদিকে, মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকায় আপাতত অস্ত্রোপচার সম্ভব হচ্ছে না বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
গত সোমবারের ঘটনায় খগেন মুর্মুর বাঁ চোখের নীচের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির হাসপাতালে গিয়ে খগেনকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সাংসদের চোট গুরুতর নয়, তবে ডায়াবেটিস থাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিন্তু বিজেপি দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে কথা বলেছেন, সাংসদের চোট ভীষণ গুরুতর।
অন্যদিকে, বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকেও দেখতে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে শঙ্কর বলেন, ‘‘চোট পেয়েছি, ব্যথা আছে, তবে ভাল আছি।’’ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘‘ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। হঠাৎ কিছু লোক ‘দিদি-দিদি’ বলতে বলতে আমাদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলা পরিকল্পিত ছিল।’’
বুধবারই হাসপাতালে দুই নেতাকে দেখতে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ''হামলাকারীরা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে তারা তৃণমূলের লোক। ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ক্যামেরায় হামলাকারীদের মুখ দেখা গেছে। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কী করছে তারা?''
মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানায় এনে বিজেপি সাংসদ বলেন, ''এমন পুলিশমন্ত্রী থাকার চেয়ে তাঁকে বন্যার জলে ফেলে দিলে ভাল হয়।'' একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারিও দিয়ে বলেছেন, ''পুলিশ যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বিজেপি তাদের মতো করে ট্রিটমেন্ট করবে।''