আক্রান্ত সংবিদের কথায়, “কাকলী চৌধুরী এসে জিজ্ঞাসা করেন, তোর বাবার নাম কী? আমি বলি কাজল গোস্বামী। তখন বলেন, অনেক বড় নেতা হয়ে গিয়েছে! আমাদের বিরুদ্ধে সংগঠন করবে? বলে গালে থাপ্পড় মারেন। তারপর অন্যদের বলেন, এবার একে মারো। আমায় মেরে রক্তাক্ত করে দেয়।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বিজেপি নেতাকে শায়েস্তা করতে তাঁর ছেলেকে (BJP leader's son beaten) পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মালদহের (Maldah)। অভিযুক্ত কাউন্সিলর কাকলী চৌধুরী ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর স্ত্রী (Trinamool councillor)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়িয়ছে।
অভিযোগ, শুক্রবার রাতে ইংরেজবাজারের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে গল্প করছিলেন প্রথম বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র সংবিদ গোস্বামী। হঠাৎই কয়েক জন এসে তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় তৃণমূলের ওয়ার্ড পার্টি অফিসে। সেখানে গিয়ে শুরু হয় মারধর।
সংবিদের বাবা কাজল গোস্বামী মালদহ জেলার বিজেপি নেতা এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য। তিনি বলেন, “আমার ছেলে তখন বন্ধুর সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওকে ধরে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে পৌঁছে যাই। দেখি ওকে রক্তাক্ত করে দিয়েছে। মুখে, মাথায় আঘাত। কাকলী চৌধুরী নিজে দাঁড়িয়ে মারধরের নির্দেশ দিচ্ছেন। দেরিতে পৌঁছলে ওর প্রাণহানি ঘটতে পারত।”
কাজলবাবুর অভিযোগ, গাজোলে শুভেন্দু অধিকারীর সভার প্রচার করছিলেন তিনি। সেই কারণেই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরাগভাজন হন তিনি। তাঁর দাবি, “রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছে।”
আক্রান্ত সংবিদের কথায়, “কাকলী চৌধুরী এসে জিজ্ঞাসা করেন, তোর বাবার নাম কী? আমি বলি কাজল গোস্বামী। তখন বলেন, অনেক বড় নেতা হয়ে গিয়েছে! আমাদের বিরুদ্ধে সংগঠন করবে? বলে গালে থাপ্পড় মারেন। তারপর অন্যদের বলেন, এবার একে মারো। আমায় মেরে রক্তাক্ত করে দেয়।”
ঘটনার পরই ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কাজল গোস্বামী। অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সংবিদের প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাকলী চৌধুরীর স্বামী তথা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, “যেটা বলা হচ্ছে, সব মিথ্যে। পার্টি অফিসে কোনও মারধর হয়নি। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, এফআইআর করুন। পুলিশ তদন্ত করুক। মিথ্যা রটানো হচ্ছে।”