কিছুদিন ধরেই তাঁর দলবদলের জল্পনা চলছিল। অবশেষে তাতে সিলমোহর পড়ল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, বিশেষত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাবের কারণে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 February 2026 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে পূর্ব মেদিনীপুরে (Purba Medinipur) রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন। ময়নার বিজেপির (Moyna BJP) প্রভাবশালী মুখ চন্দন মণ্ডল (Chandan Mondal) শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিলেন। শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতা সুজিত রায়ের উপস্থিতিতে তিনি দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন।
কিছুদিন ধরেই তাঁর দলবদলের জল্পনা চলছিল। অবশেষে তাতে সিলমোহর পড়ল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, বিশেষত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রভাবের কারণে। সেই জেলায় তৃণমূলের পক্ষে এমন ভাঙন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
জেলা রাজনীতিতে চন্দন মণ্ডলকে বরাবরই ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার (Ashok Dinda) বিরোধী শিবিরের মুখ হিসেবে দেখা হত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম জোরালোভাবে ঘুরলেও শেষ পর্যন্ত টিকিট পান অশোক দিন্দা। নির্বাচনে জয়ীও হন তিনি। এরপর থেকেই চন্দনের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে দাবি তাঁর অনুগামীদের। ব্লক কনভেনারের পদ থেকেও তাঁকে সরানো হয়। গত এক বছরে বিজেপির কর্মসূচিতে তাঁকে বিশেষ দেখা যায়নি।
দলবদলের পর চন্দন মণ্ডল জানান, এটি কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, নৈতিক সিদ্ধান্তও বটে। তাঁর কথায়, ময়নার মানুষের স্বার্থে কাজ করতেই তিনি তৃণমূলে এসেছেন। এলাকার মৎস্যজীবীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে সেগুলির সমাধান হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় সিনহা বলেন, দল কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। একজনের প্রস্থান সংগঠনের শক্তিতে প্রভাব ফেলবে না। জেলার ১৬টি আসনেই জয়ের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
উল্লেখযোগ্য, চন্দন মণ্ডলের স্ত্রী খুকুরানি মণ্ডল গোজিনা পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান। তাঁর অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে জেলাজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি তিনি।
ভোটের মুখে এই দলবদল ময়নার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।