কৌস্তভের গ্রেফতারির দাবিতে মুখ্যসচিবকে চিঠিও দিয়েছে ডক্টর্স ফোরাম।

ব্যারাকপুরের হাসপাতালে বিজেপি নেতা, আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি।
শেষ আপডেট: 2 July 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগীমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ব্যারাকপুরের (Barrackpore) এক বেসরকারি হাসপাতালে। অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রকাশ্যে শাসান বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি (Koustav Bagchi)। গোটা ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র নিন্দায় মুখর চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন। কৌস্তভের গ্রেফতারির দাবিতে মুখ্যসচিবকে চিঠিও দিয়েছে ডক্টর্স ফোরাম।
ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুরের সারদা মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় ৬৫ বছর বয়সি এক রোগীর। সেই রোগী এক বিজেপি কর্মীর বাবা বলেই জানা গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির জেরেই মৃত্যু। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে হেনস্তা করা হয় চিকিৎসকদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ঘটনার ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কৌস্তভ এক জন RMO-এর দিকে আঙুল তুলে জিজ্ঞেস করছেন, "তুমি RMO তো? তাহলে দায়িত্ব কার? আমি সিসিটিভি ফুটেজ চাই। যদি অক্সিজেন মাস্ক খোলার নির্দেশ কেউ না দিয়ে থাকে, তবে এটা পরিকল্পিত খুন।" পাশ থেকে কৌস্তভের এক সঙ্গী বলতে থাকেন, "লাইসেন্স ক্যানসেল করে দেব।"
কৌস্তভ দাবি করেন, হাসপাতাল সিসিটিভি ফুটেজ না দেখালে সারা রাত ঘেরাও চলবে। চিকিৎসক, নার্স— কাউকেই ছাড়া হবে না। এক সময় হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসক তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখনই রীতিমতো চিৎকার করে কৌস্তভ বলেন, "গায়ে হাত দেবেন না। আমাকে ছোঁয়ার যোগ্য নন আপনি। আমি বন্ধ ঘরে কথা বলার জন্য আসিনি।"
চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে ঘটনার পরে নালিশ জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, এমন আচরণে চিকিৎসা পরিবেশ চূড়ান্তভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথাও উঠছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরে একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় কৌস্তভ বলেন, "আমাদেরই এক কার্যকর্তার বাবা ভর্তি ছিলেন। সন্ধ্যায় সুস্থ ছিলেন। হঠাৎ মারা যান। বাড়ির লোকের অভিযোগ, অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়া হয়েছিল। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করি, কে খুলেছে? সবাই বলছে, কেউ বলেনি। তাহলে কে খুলল?"
তিনি আরও বলেন, "আমি আইনজীবী, জানি সীমারেখা কতটা। আমি না গেলে হাসপাতালে ভাঙচুর হত, ডাক্তাররা মার খেতেন। আমি কাউকে কিছু করিনি।" কৌস্তভ বলেন, চিকিৎসক সংগঠন বরং পরিষেবা উন্নত করুক, চিঠি দেওয়া তাদের কাজ নয়।
এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছে দিয়েছে। এখন দেখার, সরকারি তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।