দাবি, রেশন দুর্নীতি, গরু পাচার, ব্ল্যাকমেল, এমনকী সাধারণ মানুষকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো - সবেতেই চক্র চালান তিনি। ববি এও বলেন, পুলিশের একাংশ রয়েছে শাহানুরের নিয়ন্ত্রণে, ফলে প্রশাসনও কার্যত নির্বিকার।

শেখ শাহজাহান
শেষ আপডেট: 19 September 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাটে (Basirhat) তৈরি হচ্ছে আর এক ‘শেখ শাহজাহান’ (Sheikh Shajahan)। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা (BJP Leader) অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর দাবি, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক শাহানুর মণ্ডল (Sahanur Mondal) একসময়ের ভ্যানচালক থেকে কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
ববির দাবি, শাহানুর হলেন পাচারচক্রের হোতা বারিক বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ অনুগামী। তিনি একা নন, তাঁর পরিবারের দাপটও বিশাল। শাহানুরের বড় ভাইয়ের দখলে নাকি অন্তত ১৫টি ইটভাটা, ভাই সাহারাপ এখন পঞ্চায়েত প্রধান, ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোলাম মোস্তফা গাজীও একই পদে। জমি দখল থেকে রাস্তার টেন্ডারে কাটমানি, কৃষক মান্ডি সিন্ডিকেট থেকে কালোবাজারি - সবই সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

শাহানুরকে নিয়ে আরও অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা। দাবি, রেশন দুর্নীতি, গরু পাচার, ব্ল্যাকমেল, এমনকী সাধারণ মানুষকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো - সবেতেই চক্র চালান তিনি। ববি এও বলেন, পুলিশের একাংশ রয়েছে শাহানুরের নিয়ন্ত্রণে, ফলে প্রশাসনও কার্যত নির্বিকার।
বিজেপি নেতার মনে করেন, “যেভাবে সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহান একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভায় অঘোষিত শাসক হয়ে উঠেছেন শাহানুর মণ্ডল।” বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি ইডি ও সিবিআইয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাঁর দাবি, “অবিলম্বে তদন্ত শুরু না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।”
২০২৪ সালের শুরুতে রেশন দুর্নীতির তদন্তে তাঁর বাড়িতে যাওয়া ইডি ও আধাসেনা জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগে শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী খুনের তো বটেই, সামনে আসে রেশন দুর্নীতি, কৃষিজমি দখল, ভেড়ির লিজ ঘিরে টাকার জালিয়াতি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল হয় সন্দেশখালি। পরবর্তী সময় তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল এবং তিনি গ্রেফতারও হন।
পরবর্তী সময়ে একাধিকবার জামিনের আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। কিন্তু প্রতিবারই তাঁর আর্জি নাকচ হয়েছে।