বিচারপতির কড়া মন্তব্য, “একজন পুলিশ অফিসার ঘুষ চাইছেন—এতে গোটা নাগরিক সমাজের বিশ্বাস ভেঙে গেল। অথচ রাজ্য বিষয়টাকে সেন্সর করে ছেড়ে দিতে চাইছে।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 September 2025 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুষের অভিযোগ, তবু তদন্তে ‘নেগলিজেন্স’? রাজ্যের অবস্থান (West Bengal State Government) দেখে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
তারকেশ্বর থানার এক মহিলা পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ঘিরে এ দিন তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রশ্ন তুললেন, “যে অফিসার ঘুষ চায়, তিনি তদন্ত (Police Investigation) করছেন কীভাবে? এটা কি সরকারের নীতি?”
ঘটনার সূত্রপাত ইঞ্জিনিয়ার বিল্টু হাজরার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাদের পর পুলিশের কাছে গিয়েও সাহায্য মেলেনি, বরং তাঁর নামে পাল্টা মহিলা সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়। বিল্টুর দাবি, তদন্তকারী ওই মহিলা অফিসার ফোনে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। সেই ফোনালাপ তিনি রেকর্ড করে হাইকোর্টে জমা দেন।
সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যান অভিযোগকারী। সেখানেই উঠে আসে বিস্ফোরক প্রশ্ন। আদালতের কটাক্ষ, বিষয়টিকে ইচ্ছে করেই ‘হালকা’ করার চেষ্টা করছে রাজ্য। রাজ্যের দাবি, অফিসারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে। তাঁকে ‘নেগলিজেন্স’-এর দায়ে শোকজ করা হয়েছে।
তবে আদালতের মন্তব্য, ঘুষ চাওয়া কোনওভাবেই নেগলিজেন্স নয়। এটি ফৌজদারি অপরাধ, যা প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্টে পড়ে। বিচারপতির প্রশ্ন, রাজ্য কেন তাঁর বিরুদ্ধে FIR করছে না? কেন দুর্নীতি দমন আইনে তদন্ত হবে না?
বিচারপতির কড়া মন্তব্য, “একজন পুলিশ অফিসার ঘুষ চাইছেন—এতে গোটা নাগরিক সমাজের বিশ্বাস ভেঙে গেল। অথচ রাজ্য বিষয়টাকে সেন্সর করে ছেড়ে দিতে চাইছে।”
১৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। এ দিন সেই রিপোর্ট দেখে ফের তিরস্কার করল আদালত। জানিয়ে দিল, সোমবারের মধ্যেই রাজ্যকে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। তার পরেই লিখিত নির্দেশ দেবে হাইকোর্ট।