“ছ’ মাস আগে কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। চিঠি দিয়ে সমস্ত দফতরে জানিয়েছিলাম। সরকার চাইলে আগে আলোচনায় বসতে পারত। কিন্তু এখন আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে ভয় দেখানো হচ্ছে।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 September 2025 21:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বীকৃতির দাবিতে কুড়মি সমাজের (Kurmi community) দীর্ঘদিনের আন্দোলন পুজোর মুখে ফের নতুন মোড় নিল।
হাইকোর্ট (Calcutta High Court) রেল অবরোধের (Rail Blockade) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও নিজেদের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে নারাজ জঙ্গলমহলের কুড়মি সমাজ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হতে চলেছে ‘রেল টেকা’ আন্দোলন। ফলে উৎসবের মরশুমে অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের রেলপথে।
কুড়মি সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় মাহাতো ও রাজ্য যুব সভাপতি পরিমল মাহাতো এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ছ’ মাস আগে কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। চিঠি দিয়ে সমস্ত দফতরে জানিয়েছিলাম। সরকার চাইলে আগে আলোচনায় বসতে পারত। কিন্তু এখন আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে ভয় দেখানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে এ ব্যাপারে এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম বলেন, আমরাও কুড়মি সমাজকে রিকোয়েস্ট করব আসন্ন পুজোকে মাথায় রেখে ও কোর্টের অর্ডারকে মান্যতা দিয়ে তাড়া যেন কোনওরকম অমান্যতা না করেন। বাকি কিছু হলে আমরা তাঁর জন্য প্রস্তুত।
এডিজি জানান, সাধারণ মানুষ ও রেলের কোনো সমস্যা হলে অ্যাকশন নিতে হবে। ইতিমধ্যেই জঙ্গলমহলে স্পেশাল ফোর্স পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে সিসিটিভি প্রয়োজন সেখানে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৩১ সালের জনগণনা পর্যন্ত কুড়মি সমাজকে ‘প্রিমিটিভ ট্রাইব’ হিসাবে উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনতার পরে সেই স্বীকৃতি হারিয়ে যায়। ফের জনজাতি মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে তাঁরা বারবার রাজ্য ও কেন্দ্রকে দরবার করেছেন। রাজ্য সরকার সেই দাবি কেন্দ্রের কাছে সুপারিশও করে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও জাস্টিফিকেশন চাওয়ার পর, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্য গড়িমসি করছে বলেই অভিযোগ কুড়মিদের।
এই কারণেই দাবি আদায়ের চাপ বাড়াতে পুজোর মুখে রেল অবরোধের ডাক দিয়েছে কুড়মি সমাজ। ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনগুলির আবেদনের ভিত্তিতে পুরুলিয়ার এক মামলায় আদালত রেল অবরোধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে আন্দোলনকারীরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—“নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আমরা পিছপা হব না। সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে, পুজোর মরশুমে হলেও আন্দোলন চলবে।”
এখন দেখার, আদালতের নির্দেশ ও আন্দোলনকারীদের অনমনীয় অবস্থানের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।