বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, দলীয় পতাকা হাতে কয়েকজনকে নিয়ে ওই প্রার্থী আচমকা ব্যবসায়ীর দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করতে শুরু করেন। এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) আবহে ফের সামনে এল খাদ্যাভ্যাস ও ব্যবসা ঘিরে বিতর্ক। ব্রিগেডে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি নিয়ে যে বিতর্ক এক সময় রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল, সেই স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এল। এবার অভিযোগের কেন্দ্র ডোমজুড় (Domjur BJP Candidate)।
এক মুরগির মাংস বিক্রেতার দোকান বন্ধ করে দেওয়া এবং তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, প্রচারে বেরিয়ে ডোমজুড়ের ওই প্রার্থী (Domjur BJP Candidate) তাঁর দলীয় সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় ঘোরার সময় এক মাংস বিক্রেতার দোকানের সামনে দাঁড়ান। সেখানেই ওই ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা, জেহাদি বলে কটূক্তি করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগদীশপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, দলীয় পতাকা হাতে কয়েকজনকে নিয়ে ওই প্রার্থী আচমকা ব্যবসায়ীর দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করতে শুরু করেন। এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শোনা যায়, ব্যবসায়ীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ওই জায়গায় ব্যবসা না করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলেও সম্বোধন করা হয়েছে বলে দাবি। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ী তাঁর দোকান সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। অভিযোগ, দোকানটি রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে সরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই ব্যবসায়ী এলাকায় কোনও সমস্যা ছাড়াই ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। তৃণমূলের বক্তব্য, চিকেন প্যাটিসের পর এবার মুরগির মাংসের দোকানই তুলে দিচ্ছে বিজেপি। ক্ষমতায় আসলে বাংলার মানুষকে আর মাছ-মাংস খেতে দেবে না ওরা।
ওই ব্যবসায়ীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি বীরভূম জেলার লাভপুরে। সেখানে তাঁর পরিবারের সকলের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিও তাঁর কাছে আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবুও কেন তাঁকে এইভাবে হেনস্থা করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় মহলে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, এর আগে প্যাটিস নিয়ে বিতর্কের পর এবার মাংসের দোকান নিয়েও একই ধরনের মানসিকতা সামনে আসছে। তাদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রার্থীর বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বাড়ির সামনে ওই ব্যবসায়ীকে বসানো হয়েছে, যাতে তিনি যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি লোকজনকে রাজ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা চলছে। যদিও তিনি এ-ও বলেন, যদি তাঁর বক্তব্যে কোনও ভুল থাকে, তবে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। খাদ্যাভ্যাস, পরিচয় - এই দুই বিষয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য হয়ে উঠেছে।