জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা এলাকায় শনিবার গভীর রাতে তল্লাশি চলাকালীন দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ। নিয়মিত নাকা তল্লাশির সময় তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আটক করা হয়।
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 5 April 2026 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। রবিবার উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে তাঁর জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কিন্তু সভার ঠিক আগের রাতেই ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা এলাকায় শনিবার গভীর রাতে তল্লাশি চলাকালীন দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (Two Arrested By BSF)। নিয়মিত নাকা তল্লাশির সময় তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। ধৃতদের কাছ থেকে মিলেছে ৬টি দেশি পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড কার্তুজ। এরপর তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ধৃত দুই ব্যক্তি মেখলিগঞ্জ দিক থেকে অস্ত্র নিয়ে আসছিল। রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরে পড়ে তারা। তবে কেন এই অস্ত্র আনা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনা জড়িত কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগের রাতে এমন অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি আরও একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শনিবারই উত্তেজনা ছড়ায় রাজ্যে। মালদহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে আচমকাই একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। মালতীপুর এলাকায় দুপুরের দিকে যখন তিনি উড়ানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ওই ড্রোন চোখে পড়ে। ঘটনায় মুহূর্তে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ড্রোনটি দেখতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও কিছুটা থমকে যান এবং প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। তিনি পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল তা খতিয়ে দেখতে এবং দ্রুত দায়ীদের চিহ্নিত করতে। তাঁর কথায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁকফোকর থাকলে তা মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনার পরপরই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও ধৃতদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র ও অনুমতির কাগজপত্র ছিল, তবুও কেন তাঁরা এইভাবে ড্রোন ওড়ালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় না রেখে এমন পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল, সেই উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃতভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে ভোটের আগে পরপর দুটি ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে অস্ত্র উদ্ধার, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন - এই দুই ঘটনাই প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে।