এদিন যে ১১১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে রাজেশ কুমারের নাম চমক বটে। তবে উল্লেখযোগ্য আরও প্রার্থীর নাম রয়েছে।

রাজেশ কুমার, তাপস রায়, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, অর্জুন সিং।
শেষ আপডেট: 19 March 2026 22:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরেই 'দ্য ওয়াল'-এ লেখা হয়েছিল যে বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী (BJP Candidate list 2026 West Bengal) তালিকায় বড় চমক থাকতে পারে। একদা কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমারকে প্রার্থী করতে পারেন শুভেন্দু-শমীকরা। হলও তাই। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চল জগদ্দলে প্রার্থী করা হল অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমারকে।
এদিন যে ১১১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে রাজেশ কুমারের নাম চমক বটে। তবে উল্লেখযোগ্য আরও প্রার্থীর নাম রয়েছে। যেমন উত্তর কলকাতার মানিকতলা আসনে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সংগঠনের সহ সভাপতি তাপস রায়কে। ওই আসনে তৃণমূল প্রার্থী করেছে রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেকে।
নোয়াপাড়ার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে অর্জুনের নাম অনেক দিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে। তৃণমূল এবার সেখানে বর্তমান বিধায়ক মঞ্জু বসুকে আর টিকিট দেয়নি। জোড়াফুলের প্রার্থী হয়েছেন ছাত্র নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। তৃণাঙ্কুর পার্থ ভৌমিকের অনুগামী বলেই পরিচিত। অর্থাৎ নোয়াপাড়ায় আসল লড়াইটা হবে পার্থ বনাম অর্জুনের।
গত কয়েক বছর ধরে বিজেপি একটি নব্য মুখপাত্র ব্রিগেড তৈরি করতে সফল হয়েছে। দলের সেই সব তরুণ মুখদের মধ্যে অন্যতম হলেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁকে রাজারহাট গোপালপুরে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এগরা থেকে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী।
এ ছাড়া পরিচিত মুখের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলি। সোনারপুরে লাভলি মৈত্রর বিরুদ্ধে লড়বেন তিনি। এছাড়া রয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর টলিপাড়ার সঙ্গে সম্পর্ক, এবার তাঁকে টালিগঞ্জেই প্রার্থী করা হয়েছে। টালিগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক হলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অর্থাৎ টালিগঞ্জে লড়াই হবে অরূপ বনাম পাপিয়া।
তবে এই সব নামগুলিই প্রত্যাশিত। সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ও চমক অবশ্যই রাজেশ কুমার। রাজেশ ১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। পুলিশ মহলেই কথিত রয়েছে, রাজেশের খুব কাছের বন্ধু হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীবকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন তৃণমূলের সাংসদ রাজীব। আর রাজেশ গেলেন বিজেপিতে। তাঁর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সুসম্পর্কেরও একটি অধ্যায় রয়েছে। তা ছাড়া রাজেশের সঙ্গে দিল্লির বিজেপি নেতাদের অনেকেরই দীর্ঘদিনের পরিচয়। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার গঠনের পর তৎকালীন বিজেপির মন্ত্রী চন্দ্রেশ কুমার কাটৌচের ওএসডিও ছিলেন রাজেশ কুমার।
তবে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর মূল ঘনিষ্ঠতা ছিল মুকুল রায়ের সঙ্গে। মুকুল রায়ই তাঁকে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার পর তাঁকে ২০১৬ সালে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ তথা সিআইডি-র এডিজি করা হয়েছিল। কিন্তু মুকুল রায় পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যেতেই মমতার সন্দেহের চোখে পড়েন রাজেশ। তাঁকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে তাঁকে বসিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অনেকে মনে করেন, মুকুল রায়ের সুপারিশেই তা হয়েছিল।
উনিশের লোকসভা ভোটের পর রাজেশ কুমারকে ফের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মেম্বার সেক্রেটারি করা হয়। সেই সময়ে পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সুবাদেই শুভেন্দুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় রাজেশের।