বিমান মনে করছেন, বিরোধী দলের নেতা-মন্ত্রীদের এমন ধারায় মামলা দেওয়া হবে যাতে তাঁরা জামিন না পান। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিল এনেছে।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 20 August 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধের অভিযোগে টানা ৩০ দিন কারাবন্দি থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি পদচ্যুত হবেন। লোকসভায় এমনই বিল (130th Ammendment Bill) এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার, যা নিয়ে আপাতত তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মতো বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Biman Banerjee) বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন - এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বিল।
প্রস্তাবিত বিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে সব জনপ্রতিনিধি পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে একটানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকবেন, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় তাঁরা পদে ফিরে আসতে পারবেন। কিন্তু বিমান মনে করছেন, বিরোধী দলের নেতা-মন্ত্রীদের এমন ধারায় মামলা দেওয়া হবে যাতে তাঁরা জামিন না পান। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিল এনেছে।
বিমান জানান, দেশে এমন বহু আইন রয়েছে যেখানে গ্রেফতার হলে জামিন (Bail) পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে ইডি (ED) কাউকে গ্রেফতার করলে ৩০ দিন কেন, ৩০০ দিনেও কেউ জামিন পান না। এই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনায় অবাক হয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। তিনি বলেন, ''এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের সদস্যপদ যাবে না, কিন্তু তাঁরা মন্ত্রী হতে পারবেন না। কিন্তু সংসদের সদস্য হলে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার অধিকার রয়েছে যদি তাঁর নাম সরকার প্রস্তাব করে। এই জায়গা কীভাবে কেন্দ্র মেক আপ করবে আমি জানি না।'' তাঁর স্পষ্ট কথা, বিরোধীদের চাপে ফেলতেই এই বিল আনা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলের ইস্যুতে দাবি করেছেন - ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন আঘাত। এটি জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ঙ্কর। শুধু তাই নয়, দেশের গণতন্ত্র ও ফেডারেল কাঠামোকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার পথে একটি পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে তিনি বড় করে ছবির মাধ্যমে বার্তা দেন, এটি গণতন্ত্রের কালো দিন ছাড়া কিছুই নয়।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন এই বিল পিছন দিকে ফিরে যাওয়ার এক বিপজ্জনক ধাপ। যেখানে স্বাধীন আদালতের বদলে আইন চলে যাবে পক্ষপাতদুষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে বিচারিক পর্যবেক্ষণের, ভেঙে ফেলা হবে সাংবিধানিক সুরক্ষা। সব মিলিয়ে, পিষে ফেলা হবে জনগণের অধিকার।