অভিযোগ, ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল (130th Amendment Bill) গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার ওপর হিটলারি আঘাত। বিলকে গণতন্ত্রের মৃত্যুর পরোয়ানা আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিরোধের ডাক মমতার।

অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 20 August 2025 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিলের প্রবল বিরোধিতা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিতর্কের আবহে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন আঘাত। এটি জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ঙ্কর। শুধু তাই নয়, দেশের গণতন্ত্র ও ফেডারেল কাঠামোকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার পথে একটি পদক্ষেপ।
এদিন মমতা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "আমি ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের কঠোর নিন্দা করছি। এই বিল শুধু গণতন্ত্র নয়, দেশের ফেডারেল কাঠামোর উপরেও শেষ আঘাত। এটি ‘অতিজরুরি অবস্থা’র চেয়েও ভয়ঙ্কর, যা ভারতের গণতান্ত্রিক যুগের অবসান ঘটাবে।”
সেই সঙ্গে তিনি বড় করে ছবির মাধ্যমে বার্তা দেন, এটি গণতন্ত্রের কালো দিন ছাড়া কিছুই নয়।
এদিন প্রস্তাবিত বিলটিকে তিনি আখ্যা দেন 'হিটলারি আক্রমণ' বলে। তাঁর বক্তব্য, “এই বিল বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা শেষ করে দিতে চাইছে। আদালতের সাংবিধানিক ভূমিকা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। যে আদালত নাগরিকের ন্যায়বিচারের ভরসাস্থল, সেই আদালতের ক্ষমতাই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “এটি সংস্কার নয়, বরং পিছন দিকে ফিরে যাওয়ার এক বিপজ্জনক ধাপ। যেখানে স্বাধীন আদালতের বদলে আইন চলে যাবে পক্ষপাতদুষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে বিচারিক পর্যবেক্ষণের, ভেঙে ফেলা হবে সাংবিধানিক সুরক্ষা। সব মিলিয়ে, পিষে ফেলা হবে জনগণের অধিকার। একে আমি বিংশ শতকের সেই অন্ধকার অধ্যায়গুলির সঙ্গে তুলনা করছি, যা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে জন্ম দিয়েছিল।”
মঙ্গলবারই অমিত শাহ লোকসভার সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান, চলতি অধিবেশনে তিনটি বিল পাস করার জন্য উপস্থাপন করা হবে। সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল,২০২৫, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল,২০২৫ এবংকেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধনী) বিল ২০২৫।
বিল অনুযায়ী, যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য কোনও অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ৩০ দিন টানা হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে, গভর্নর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করার ক্ষমতা রাখবেন।
এই প্রস্তাবের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই বিল ভারতের সংবিধানের মৌল কাঠামোকেই আঘাত করবে। ফেডারেল ব্যবস্থা, ক্ষমতার বিভাজন, বিচারিক পুনর্বিবেচনা— এগুলো এমন নীতি, যা সংসদও পরিবর্তন করতে পারে না। তাই এই বিল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য 'মৃত্যুর পরোয়ানা' বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, সরকারের আসল উদ্দেশ্য হল এককেন্দ্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই বিল আসলে একদল-একব্যক্তি-এক সরকারের ব্যবস্থা কায়েম করার ষড়যন্ত্র। এটি সংবিধানের মৌল কাঠামোকে মাটিতে মিশিয়ে দেবে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ইডি, সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলোকে অস্বাভাবিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলোর কাজে হস্তক্ষেপের রাস্তা খুলে দিচ্ছে কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্ট যাদের ‘খাঁচার তোতা’ বলেছিল, সেই সংস্থাগুলোকেই মানুষের রায়ের ওপরে বসানো হচ্ছে বলে সরাসরি আক্রমণ করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, “এই বিল যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে। সংবিধান জনগণের, ক্ষমতাসীনদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যদি জনগণের আদালত ও অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, মানুষ কখনো ক্ষমা করবে না। এখনই গণতন্ত্র বাঁচাতে হবে।”