প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ কীভাবে এমন প্রশ্ন বা তার শব্দচয়নকে অনুমোদন দিল? কীভাবে এমন একটি প্রশ্ন পরিষদের নজর এড়িয়ে ছাপা হল?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 08:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vidyasagar University) স্নাতক স্তরের ষষ্ঠ সেমেস্টারের ইতিহাসের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে (History Question Paper) স্বাধীনতা সংগ্রামীদের (Freedom Fighter) ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়া নিয়ে জোর বিতর্ক ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুর (West Medinipur) তথা রাজ্যজুড়ে।
প্রশ্নপত্রের ১২ নম্বর প্রশ্নে লেখা হয়েছে, “মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম কর, যারা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন।” এই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক ও তীব্র প্রতিবাদ।
‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’-সহ একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ঐতিহাসিক মহল এই শব্দচয়নের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা চরম অপমান। এই ভুল শুধুই ভাষার নয়, ইতিহাসের বিকৃতি বলেই মত তাঁদের।

শিক্ষামহল মনে করছেন, প্রশ্নে যাঁদের উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরা ব্রিটিশ আমলে মেদিনীপুরের তিন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট — বার্জ (১৯৩৩), পেডি (১৯৩১) এবং ডগলাস (১৯৩২)। এই তিনজনকে হত্যা করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।
পেডিকে হত্যা করেন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত এবং জ্যোতিজীবন ঘোষ। ডগলাসকে হত্যা করেন প্রভাংশুশেখর পাল ও প্রদ্যোৎকুমার ভট্টাচার্য। বার্জকে হত্যা করেন অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ ও ব্রজকিশোর চক্রবর্তী। এঁদের অনেকেই শহিদ হয়েছিলেন।
এই বিপ্লবীদের নামে আজও মেদিনীপুর শহর জুড়ে রয়েছে মূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়রা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট কথা, এই সকল ব্যক্তিরা একজন শহিদ ও দেশপ্রেমিক হিসেবেই কার্যত পূজিত হয়ে আসছেন। জেলা পরিষদের যে ভবনে ডগলাস খুন হয়েছিলেন, সেই ভবনকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করার দাবিও বহু বছর ধরে করে আসছেন অনেকে।
প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ কীভাবে এমন প্রশ্ন বা তার শব্দচয়নকে অনুমোদন দিল? কীভাবে এমন একটি প্রশ্ন পরিষদের নজর এড়িয়ে ছাপা হল?
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাংশ বলছে, ভুল প্রশ্ন বা ঠিক প্রশ্ন কিনা তা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য 'সন্ত্রাসবাদী' শব্দচয়ন কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই প্রশ্ন ঠিক করা যাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল, তাদের কেউ কেউ আবার 'দেশদ্রোহী' বলতেও ছাড়েননি।
'শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ' ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্ষমা চাইতে হবে। আর ভবিষ্যতে যাতে এমন 'ভুল' না হয় তা প্রতিজ্ঞা করতে হবে। সেই প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থাও নিতে হবে।