বুধবার এই মামলার শুনানিতে শিয়ালদহ আদালত নির্যাতিতার পরিবারের সেই আবেদন খারিজ তো করলেই, পাশাপাশি চরম ভর্ৎসনা করল সিবিআইকে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 July 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) নির্যাতিতার বাবা-মা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সিবিআই তাঁদের আর্জিতে আপত্তি জানায়নি। বুধবার এই মামলার শুনানিতে শিয়ালদহ আদালত (Sealdah Court) নির্যাতিতার পরিবারের সেই আবেদন খারিজ তো করলেই, পাশাপাশি চরম ভর্ৎসনা করল সিবিআইকে (CBI)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নিজের তদন্তদের ওপরই ভরসা নেই।
নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, 'লাস্ট সিন থিওরি' (Last Seen Theory) মেনে তদন্ত হয়নি। তাই ঘটনাস্থল বা 'প্লেস অফ অকারেন্স' (Place of Occurance) পরিদর্শন করতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে, নিজেদের বিশেষজ্ঞ টিমও সেখানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও পরে নির্দেশমতো শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। বুধবার নির্যাতিতার পরিবারের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে কোর্ট। পাশাপাশি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে।
শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অরিজিৎ মণ্ডল কার্যত বিস্মিত হয়েছেন সিবিআই-এর 'নো অবজেকশন' (No Objection) নিয়ে। তাঁর মন্তব্য, 'পরিবারের আবেদনপত্র দেখে মনে হয়েছে তাঁদের আইনজীবীরা সমান্তরাল তদন্ত করতে চান। এতেই অবাক হচ্ছি কেন সিবিআই কোনও নো অবজেকশন দিল না। সিবিআইয়ের অবস্থা শোচনীয়।' এই প্রসঙ্গেই আদালতের প্রশ্ন - তাহলে কি সিবিআই মনে করছে তাঁদের তদন্তই ঠিক হয়নি? তাঁদের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা কি ঠিক কাজ করেনি? এটাই যদি হয় তাহলে এতদিন বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত কীভাবে হল? তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
সিবিআইয়ের প্রতি আদালতের ক্ষোভ এখানেই শেষ নয়। আরজি করের ধর্ষণ-খুন মামলা ছাড়াও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। কিন্তু একটি মামলায় তাঁরা জামিন পেয়ে যান। শিয়ালদহ কোর্টের বিচারকের মন্তব্য, সিবিআইয়ের চার্জশিট জমা না দেওয়ার জন্যই দুজন জামিন পেয়েছেন। পরিশেষে, নির্যাতিতার পরিবারের আর্জি খারিজ করে আদালত সাফ জানিয়েছে - আইনে কোথাও এরকম অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্যাতিতার বাবা-মা শুরু থেকেই সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসেছেন। ক্ষোভের সুরে তাঁদের এও দাবি, টাকা নিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে! পুরনো স্ট্যাটাস রিপোর্টের পয়েন্ট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাফ কথা, তাঁরা এখনও তদন্ত করছে। কিন্তু শিয়ালদহ আদালত যে প্রশ্ন তুলেছে তাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।