এই মুহূর্তে মামলাটি গ্রহণ করা হবে কিনা, তা নিয়ে সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ আদালত।

সঞ্জয় রায়
শেষ আপডেট: 9 July 2025 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত (Lifetime Imprisonment) সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায় বেকসুর খালাসের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন। বুধবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি দায়ের হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে মামলাটি গ্রহণ করা হবে কিনা, তা নিয়ে সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ আদালত। বিষয়টি নিয়ে আগামী ১৬ জুলাই শুনানি হবে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হন সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায় (Sanjay Roy)। প্রথমে কলকাতা পুলিশ এবং পরে সিবিআই তদন্তভার নিলেও আর কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। শেষমেশ সঞ্জয়কেই শিয়ালদহ আদালত (Sealdah Court) দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বারংবার তার ফাঁসির দাবি করেছে আবেদন করেছে সিবিআই। সাধারণ মানুষও একই দাবিতে সরব হয়েছিল। কিন্তু আদালত আরজি করের ঘটনাকে বিরলের থেকে বিরলতম বলে মনে করেনি।
গত জানুয়ারি মাসে সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবনের সাজা দেয় শিয়ালদহ আদালত। সেই থেকে জেলবন্দি তিনি। আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা অবশ্য সঞ্জয়ের ফাঁসি চাননি। বরং তাঁদের দাবি, আরও একাধিকজন জড়িত এই ঘটনায়। তাদের খুঁজে বের করতে সঞ্জয়ের সাহায্য লাগবে তদন্তকারীদের। এখন সেই সঞ্জয়ই নিজের জেলমুক্তি চেয়ে আবেদন করেছেন কলকাতা হাইকোর্টে।
সঞ্জয় রায়ের সাজা হলেও আরজি করের প্রতিবাদী জুনিয়র চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করেন, আসল অপরাধীরা এখনও মুক্ত। আদতে সঠিক বিচার হয়নি। এদিকে আগামী ৯ অগাস্ট নির্যাতিতার মৃত্যুর এক বছর। তাই আরও বড় প্রতিবাদের পথে হাঁটছেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
৮ ও ৯ অগাস্টের মাঝে ‘রাত দখল’-এর (Reclaim The Night) ডাক দেওয়া হয়েছে। সেদিনই কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মশাল মিছিল করবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরপর রাত ১২টা থেকে পরের দিন ভোর ৪টে পর্যন্ত পথে থাকবেন। শিল্পী থেকে নাগরিক সমাজ - সকলকে সেই মিছিল এবং কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
৯ অগাস্ট রাখী। সেদিন সকালে রাখীবন্ধনের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের। পরে বিকেলে আরজি কর মেডিক্যালে ফের জমায়েতে ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেদিনই নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁরা সেই কর্মসূচিতে সামিল হবেন না। নবান্ন অভিযান প্রসঙ্গে তাঁরা বলছেন, দলীয় পতাকা ছাড়া নবান্ন অভিযানের কথা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার ঘোষণা হয়েছে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে। তাই এই কর্মসূচিতে তারা থাকবেন না। যদিও জানা গেছে, আরজি কর নির্যাতিতার বাবা-মা এতে সামিল হবেন।