পরিবারের অভিযোগ, বিএসএফ হেফাজতে তুলে দেওয়ার পরে তাঁদের খোঁজই মিলছে না। উদ্বেগে দিন কাটছে পরিজনদের।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 9 July 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হোক বা ওড়িশা, বাংলাদেশি সন্দেহে একের পর এক পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ (Bengali workers harassed on suspicion of being Bangladeshi)। সেই তালিকায় এ বার উঠে এসেছে বীরভূমের ছ’জন শ্রমিকের নাম। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হল হেবিয়াস কর্পাস মামলা। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়েছে আদালতে।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি ওড়িশার ক্ষেত্রেও একই ধরণের অভিযোগ উঠেছে। দু’টি ঘটনা একসঙ্গেই শোনা হবে বলে জানানো হয়েছে আদালতের তরফে। আগামী শুক্রবার মামলার শুনানি হতে পারে।
সূত্রের খবর, বীরভূম জেলার পাইকরের বাসিন্দা ছ’জন শ্রমিক রুজির জন্য গিয়েছিলেন রাজধানী দিল্লিতে। কিন্তু ১৮ জুন তাঁদের আটক করে দিল্লির রোহিনী জেলার কাটজু থানার পুলিশ। পরিবারের লোকজনের দাবি, ওই শ্রমিকেরা প্রথমে ফোনে জানাতে সক্ষম হন যে, বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যেরা দিল্লিতে পৌঁছলে থানা থেকে জানানো হয়, ওই ছ’জনকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের 'পুশ ব্যাক' করিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কোন সীমান্ত দিয়ে তাঁদের পাঠানো হল? এখনও কোনও তথ্য নেই পুলিশের কাছ থেকে। পরিবারের অভিযোগ, বিএসএফ হেফাজতে তুলে দেওয়ার পরে তাঁদের খোঁজই মিলছে না। উদ্বেগে দিন কাটছে পরিজনদের। তাঁরা জানিয়েছেন, রাজ্য শ্রম দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় আইনের দ্বারস্থ হওয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনা নতুন নয়। দিল্লির ঘটনার আগেই একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল ওড়িশার বিরুদ্ধে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের একাধিক শ্রমিককে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে আটক করা হয়েছিল সেখানেও। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ দিন যোগাযোগ না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ওড়িশার মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে কারণ জানতে চান। পরে কিছু শ্রমিক ফিরে এলেও, আটক হওয়া সকলেই ফিরেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বারবার একই অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বিগ্ন পরিজনেরা। শুধুমাত্র বাংলা থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া মানেই কি বাংলাদেশি সন্দেহে আটক হওয়ার ভয়?—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শ্রমিক মহলে। আদালতের হস্তক্ষেপেই কি তবে মিলবে কোনও সুরাহা? সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।