পরিবারের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের তেমন নজর নেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 October 2025 21:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের কানপুরে (Uttar Pradesh) নৃশংসতার শিকার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক (Bengal migrant worker death)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়ছে। উস্কে উঠেছে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম পথিক হেমব্রম (৩২)। বাড়ি বীরভূম জেলার পাড়ুই থানার কসবা অঞ্চলের দামোদরপুর গ্রামে। কয়েক মাস আগেই কাজের সূত্রে কানপুরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই এক চামড়ার কারখানায় কাজ করতেন।
পরিবার সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের গোবিন্দনগর থানার কাছাকাছি এলাকায় দিল্লি–কানপুর রেললাইনের পাশ থেকে পথিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অনুমান, তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছতেই শোক আর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দামোদরপুর। গ্রামবাসীদের দাবি, পথিকের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের তেমন নজর নেই।
ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক বা জাতিগত বিদ্বেষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এদিকে বীরভূম জেলা প্রশাসনের তরফে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতের দেহ দ্রুত বাংলায় ফিরিয়ে আনার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কিছুদিন আগেই, পেশায় রাজমিস্ত্রি নদিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয় গুজরাতে। সেই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই নিয়ে চার নম্বর ঘটনা ঘটল এই পুজোর মাসেই।
কালীপুজোর সময়েই আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকে মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। পুজো উপলক্ষে গোয়া থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, কিন্তু ২৬ বছর বয়সি পরিযায়ী শ্রমিক রমেশ মাঝির পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় ওড়িশার কটকের কাছে। পরিবারের দাবি, ট্রেনেই তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে এবং এরপর দেহ ফেলে দেওয়া হয়।
তাছাড়া 'বাংলাদেশি' সন্দেহ তো রয়েছেই। গত মাসে বিহারে ফেরি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন মুর্শিদাবাদের তিন পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করা হয় তাঁদের। বারবার কাকুতি মিনতি করলেও কান দেয়নি কেউ। মারধর করে তাঁদের রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা।
বিশেষত উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ও হরিয়ানার মতো রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাঙালিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিনই জীবিকার খোঁজে রাজ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।