এই বিপুল সংখ্যক ডেঙ্গু লার্ভার স্পট মূলত অপরিচ্ছন্ন নর্দমা, জমে থাকা জল, পুরনো টায়ার, ভাঙা হাঁড়ি, ব্যারেল, ফেলে দেওয়া পাত্র প্রভৃতি জায়গায় মিলেছে। বিশেষ করে, যেসব এলাকায় নিয়মিত নিকাশি ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, সেখানেই এমন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে দফতরের দাবি।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 July 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গুর (Dengue) আতঙ্ক ফের গ্রামবাংলায়। প্রাক-বর্ষার সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় শুরু হয়েছিল নজরদারি। আর সেই পরিদর্শনের ফলেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল পঞ্চায়েত দফতরের (Panchayat Dept) সাম্প্রতিক রিপোর্টে।
পঞ্চায়েত দফতর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ৭২ হাজারেরও বেশি স্থানে ডেঙ্গু বাহিত মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক ডেঙ্গু লার্ভার স্পট মূলত অপরিচ্ছন্ন নর্দমা, জমে থাকা জল, পুরনো টায়ার, ভাঙা হাঁড়ি, ব্যারেল, ফেলে দেওয়া পাত্র প্রভৃতি জায়গায় মিলেছে। বিশেষ করে, যেসব এলাকায় নিয়মিত নিকাশি ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, সেখানেই এমন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে দফতরের দাবি।
পঞ্চায়েত দফতরের এক কর্তা জানান, ‘‘আমরা রাজ্যের প্রতিটি জেলার পঞ্চায়েত এলাকায় কর্মী পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা ঘুরে ঘুরে খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার লার্ভা-আক্রান্ত স্পট আমরা পরিষ্কার করেছি। বাকি এলাকাগুলিতে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে।’
সরকারের তরফে একাধিক প্রচার ও সতর্কতা জারি করা হলেও, সাধারণ মানুষের সচেতনতার ঘাটতিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, যতক্ষণ না মানুষ নিজে থেকে জল জমতে না দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগী হচ্ছেন, ততক্ষণ ডেঙ্গুর প্রকোপ থামানো মুশকিল।
সম্প্রতি পঞ্চায়েত দফতরের তরফে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন জেলার পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের ডেকে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয় এবং আগামী দিনে কীভাবে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেই নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত একদিন সমস্ত পাত্র খালি করে দিন, ফুলদানি বা টবের জলে জমা জল বদলান, ঘরের আশেপাশে জল না জমতে দেওয়ার ব্যবস্থা নিন এবং মশারি ব্যবহার করুন এবং শরীর ঢাকা জামাকাপড় পরুন।
ডেঙ্গু রুখতে চাইলে সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ—এই দুই-ই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, বলছেন প্রশাসনিক কর্তারা।