সিঙ্গুর আন্দোলন একসময় বাম জমানার রাজনীতিকে পাল্টে দিয়ে বড় রাজনৈতিক লাভ এনে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। তৃণমূলের আন্দোলনের জেরে টাটা সংস্থাকে কারখানা গোটাতে হয়, সেই স্মৃতি এখনও জোরাল। সেখানেই ফের সভা করে তৃণমূলের শিল্প-নীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে চাইছে পদ্মশিবির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে ফের রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর (PM Modi)। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বাংলায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও না হলেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, উত্তরবঙ্গের কর্মসূচি প্রায় নিশ্চিত হলেও দক্ষিণবঙ্গে শেষ মুহূর্তে বদল হতে পারে সভাস্থল (Bengal BJP wants Modi's rally in Singur, not Howrah)।
বিজেপি সূত্রের খবর, শুরুতে ১৮ জানুয়ারি হাওড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, হাওড়ার বদলে হুগলির সিঙ্গুরেই জনসভা হোক। ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব জানিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। শেষ পর্যন্ত হাওড়া না সিঙ্গুর, তবে সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরই।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ জানুয়ারি মালদহে জনসভা করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। ১৮ জানুয়ারি হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া–গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধনের সম্ভাবনা। অনুষ্ঠান ঘিরেই আশপাশের এলাকায় জনসভার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভোটের আগে কৌশল বদলাতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। তাই হাওড়ার পরিবর্তে সিঙ্গুরে সভা করানোর পক্ষেই তাঁরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সিঙ্গুর আন্দোলন একসময় বাম জমানার রাজনীতিকে পাল্টে দিয়ে বড় রাজনৈতিক লাভ এনে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। তৃণমূলের আন্দোলনের জেরে টাটা সংস্থাকে কারখানা গোটাতে হয়, সেই স্মৃতি এখনও জোরাল। সেখানেই ফের সভা করে তৃণমূলের শিল্প-নীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে চাইছে পদ্মশিবির, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকেই।
এর আগে ২০ ডিসেম্বর কৃষ্ণনগরের তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার নামতে না পারায় ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন মোদী। সেদিনই সুযোগ পেলে সরাসরি মানুষের কাছে ফেরার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। ফলে মালদহ ও দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি কৃষ্ণনগরেও সভা হতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা জোরদার হয়েছে।
এখন অপেক্ষা, সফরসূচিতে দক্ষিণবঙ্গের কোন শহর শেষ পর্যন্ত জায়গা পায়—হাওড়া, সিঙ্গুর, না কি কৃষ্ণনগর?