দফতর সূত্রে খবর, পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণের জন্য রাজ্যে তৈরি হবে মোট ৭৫০টি গোলা। প্রতিটি গোলার ধারণক্ষমতা থাকবে ২৫ টন। নির্মাণে খরচ পড়বে ৯ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 July 2025 20:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় পণ্যের দামে লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। কৃষি বিপণন দফতরের উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে তৈরি হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনো লঙ্কা সংরক্ষণের বিশেষ গোলা ও কৃষিপণ্য-নির্ভর ‘হাব’ (Agri Marketing Storage Hub) । উদ্দেশ্য একটাই—অসময়ে যাতে জোগান ঘাটতি না হয় এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
দফতর সূত্রে খবর, পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণের জন্য রাজ্যে তৈরি হবে মোট ৭৫০টি গোলা। প্রতিটি গোলার ধারণক্ষমতা থাকবে ২৫ টন। নির্মাণে খরচ পড়বে ৯ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। গোলা নির্মাণে উপভোক্তারা পাবেন সরকারি ভর্তুকি ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা করে। আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ জুলাই। আবেদনকারীদের বাছাই হবে লটারি পদ্ধতিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প সফল হলে একদিকে কৃষকরা ফসল বিক্রির সুবিচার পাবেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও ন্যায্য দামে পণ্য পাবেন।
কোথায় কতগুলো গোলা? দফতর সূত্রের খবর, পূর্ব বর্ধমান: ১৭৬টি, হুগলি: ১৭৫টি এবং উত্তর ২৪ পরগনা: ২৫টি গোলা তৈরি হবে।
গোলাগুলির নির্মাণ হবে ছিদ্রযুক্ত ইটের দেওয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং খড় বা অ্যাসবেস্টসের ছাউনির মাধ্যমে। সময়সীমা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করা।
এছাড়াও রাজ্যের কৃষি বিপণন দফতর ‘পণ্যনির্দিষ্ট হাব’ নির্মাণ করছে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে রয়েছে:
আদা: শালবাড়ি (দার্জিলিং), তিল: পুরশুড়া (হুগলি), সরষে: রানিনগর-১ (মুর্শিদাবাদ), লঙ্কা: হরিহরপাড়া (মুর্শিদাবাদ), গাজর: দেগঙ্গা (উত্তর ২৪ পরগনা), পানপাতা: তমলুক (পূর্ব মেদিনীপুর), ভুট্টা: করণদিঘি (উত্তর দিনাজপুর), কলা ও পেঁপে: কামাখ্যাগুড়ি (আলিপুরদুয়ার), লজিস্টিক হাব: বোলপুর মুখ্য বাজার এবং মাদারিহাট কৃষক বাজার।
কৃষিমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকেরা লাভজনক দাম পাবেন এবং সাধারণ মানুষ পাবে সুলভে গুণমানসম্পন্ন পণ্য।”