Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

Beldanga Incident: সাংবাদিক নিগ্রহে গ্রেফতার ৪, আধঘণ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দাবি পুলিশের

শনিবার সকাল গড়াতেই দৃশ্যপট বদলায়। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে বেলডাঙায় নামে ব়্যাফ। অবরোধ তুলতে শুরু হয় অভিযান, চালানো হয় ধরপাকড়। 

Beldanga Incident: সাংবাদিক নিগ্রহে গ্রেফতার ৪, আধঘণ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দাবি পুলিশের

মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 17 January 2026 18:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তপ্ত ছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Unrest)। ভিনরাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু এবং অন্য এক শ্রমিকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় দু’দিন ধরে বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা (Beldanga Protest)। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল রোকো কর্মসূচি, একাধিক গাড়ি ভাঙচুর এবং সাংবাদিক নিগ্রহ - সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই আবহেই পুলিশের (West Bengal Police) ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই উঠছিল নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ।

তবে শনিবার সকাল গড়াতেই দৃশ্যপট বদলায়। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের (Murshidabad Police SP) নেতৃত্বে বেলডাঙায় (Beldanga Incident) নামে ব়্যাফ। অবরোধ তুলতে শুরু হয় অভিযান, চালানো হয় ধরপাকড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন প্রতিবাদীর উপর লাঠিচার্জও করতে হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদের এসপি দাবি করেন, আধঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার সাংবাদিক নিগ্রহের (Journalist Harassment) ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন এসপি কুমার সানি রাজ। তবে একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বার্তা দেন, এই ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কাজ করার সময় আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, গন্ডগোলের মধ্যে কী প্রশ্ন করা হচ্ছে বা কী মন্তব্য করা হচ্ছে, তা যেন কোনওভাবেই উস্কানিমূলক না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। যদিও তিনি এও জানান, বিক্ষোভের মাঝে আটকে পড়া দুই সাংবাদিককে পুলিশই উদ্ধার করেছে।

পুলিশের প্রথমদিকে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই জেলা পুলিশের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, সকাল থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। কিন্তু তৎক্ষণাৎ লাঠিচার্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত বলেই শুরুতে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। পরে যখন বোঝা যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তখনই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেন এই উত্তেজনা

ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুই শুক্রবার বেলডাঙায় উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটায়। মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই সুজাপুর–কুমারপুর এলাকার বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন। দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার আরও এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে তেতে ওঠে পরিস্থিতি।

এই দু’দিনে একাধিক গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতিকে মারধরের ঘটনার পর শনিবার আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও চিত্রসাংবাদিক।

বিধায়কের সামনেই বিক্ষোভ

পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক (সাসপেন্ডেড) হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিধায়কের সঙ্গে প্রতিবাদীদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। হুমায়ুন কবীর বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানালেও বিক্ষোভকারীরা তাতে সাড়া দেননি।

সব মিলিয়ে, পরিযায়ী শ্রমিক সংক্রান্ত ঘটনায় শুরু হওয়া এই উত্তেজনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, প্রশাসন, রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা - সব কিছুকেই একসঙ্গে সামনে এনে দিয়েছে বেলডাঙার ঘটনায়।


```